পাচার ও চোরাচালান রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বলরুমে আয়োজিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বলরুমে আয়োজিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | ছবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফেসবুক পেইজ
0

সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কর্তৃক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। আজ (বুধবার, ১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। সদ্য প্রণীত মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।’

এসময় মন্ত্রী তার বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করেছে। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। একই সঙ্গে আইনটিতে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি সমুন্নত রাখা হয়েছে, যাতে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।’

আরও পড়ুন:

এসময় ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ধারাবাহিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

ইএ