হাসপাতালের শয্যা ৫০০। প্রতি মেঝেতেই প্রায় ৪০টি বেড। কিন্তু সেই বেড আর রোগীর চাপ সামলাতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেডের পাশে, করিডোরে বা মেঝেতেই চলছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা। এতেই জানান দিচ্ছে, বছর ঘুরে আবারও সেই প্রাদুর্ভাব দিচ্ছে মাথা চারা।
রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র যেন সেই সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন বেডের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মিলল উদ্বেগজনক তথ্য। একই ওয়ার্ডের একাধিক রোগীর বাড়ি রাজধানীর মান্ডার নন্দীপাড়া এলাকায়। কেউ প্রতিবেশী, কেউ বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া। ভিন্ন সময়ে আক্রান্ত হলেও সবার গন্তব্য ঠেকেছে এ হাসপাতালেই।
রোগীর স্বজনরা জানান, ডেঙ্গুর জন্য কোনো স্প্রে করা হয় না। যে ডেঙ্গু রিমুভের জন্য যে স্প্রে আছে ওইটা ওরকমভাবে করা হয় না। দেখা যায় ছয় মাসে একদিন আসে।
রোগীদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে নন্দীপাড়া এলাকায় গিয়ে। খালজুড়ে জমে আছে ময়লা-আবর্জনায় থেমে গেছে পানির প্রবাহ। সেই স্থির পানিতেই জন্ম নিচ্ছে মশা ও নানা রোগবাহী পোকামাকড়। শুধু খাল নয়, রাস্তার পাশের ড্রেনেও জমে থাকা নোংরা পানি যেন মশার অবাধ প্রজননক্ষেত্র।
এলাকাবাসীর দাবি, দিনের বেলাতেও মশার উপদ্রব এতটাই তীব্র যে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সন্ধ্যা নামলেই পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অসহনীয়। অভিযোগ, খাল পরিষ্কার করা হয় না, আর মশকনিধন কার্যক্রমও একদমই নেই। দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে এই এলাকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন
স্থানীয় একজন বলেন, ‘মশার কয়েল জ্বালানোর পরে মশা কোনোভাবে যাচ্ছে না। আমরা সিটি করপোরেশনের আন্ডারে পড়ছি কিনা জানি না। সেই আদি যুগেরই এক ইউনিয়ন কাউন্সিলে পড়ে আছি।’
তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, নন্দীপাড়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তার দাবি, ঘনবসতি হওয়া এবং বাসিন্দাদের অসচেতনতাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় বাধা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানা ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, ‘মাণ্ডা খুব ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। নোংরা আবর্জনা ফেলে রাখে। বৃষ্টির পানিতে ময়লাগুলোর মধ্যে পানি জমে ডেঙ্গুর উৎপত্তি হয়। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের কার্যক্রম চলমান। যতই ওষুধ ছিটায় না কেন, মানুষ যদি এমন ময়লা করে রাখে তাহলে তো কোনো ওয়ে আউট নাই।’
সিটি করপোরেশনের দাবি, প্রয়োজনে এ এলাকায় অভিযান আরও বৃদ্ধি করা হবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা ও নিজ নিজ বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।





