এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে দুই জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, বগুড়া-৬ আসনে রেজাউল করিম বাদশা এবং শেরপুর-৩ আসনে মাহমুদুল হক রুবেল বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তারা দুজনেই বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থী। উভয় আসনেই তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১৫১টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলে ধানের শীষ প্রতীকে রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাদশা।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এই আসনে এবারের উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ৪৩ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন ঘিরে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়।
অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনের স্থগিত নির্বাচনে ১২৮টি কেন্দ্র এবং পোস্টাল ব্যালটসহ প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এক লাখ ১৯ হাজার ৬৬৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী রুবেলকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঠিক আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাসুদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে এবং প্রভাব বিস্তার করে জোরপূর্বক সিল মারা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এই অভিযোগ নাকচ করে শেরপুর জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্বাচন চলাকালীন কোনো প্রার্থীর পক্ষে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ভোট বর্জন করাটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলার নামান্তর।
জামায়াতের আগের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।





