Recent event

ভাতা নিয়ে বড় সুখবর পেলেন মুক্তিযোদ্ধারা, টাকা পাবে যেদিন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় | ছবি: এখন টিভি
0

প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জানুয়ারি মাসের ভাতা (January Honorarium) নিয়ে তৈরি হওয়া সাময়িক অনিশ্চয়তা অবশেষে কেটে গেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Liberation War Affairs) সচিব ইশরাত চৌধুরী জানিয়েছেন, আজকের (সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে দেশের সকল সুবিধাভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

একনজরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা আপডেট (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
বিষয় (Subject) বর্তমান অবস্থা ও তারিখ (Current Status)
ভাতার মাস জানুয়ারি ২০২৬
ভাতা প্রদানের সম্ভাব্য তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সোমবার)
বিলম্বের কারণ অনলাইনে সাময়িক প্রযুক্তিগত ত্রুটি
ভাতা প্রদানের মাধ্যম সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (G2P)

কেন এই বিলম্ব? (Reason for Delay)

সাধারণত ডিজিটাল পদ্ধতিতে (G2P System) প্রতি মাসের শেষ বৃহস্পতিবার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা সরাসরি ব্যাংক হিসেবে জমা হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী, গত ২৯ জানুয়ারি টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও অনলাইনে সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটির (Technical Glitch) কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এবং আজ রোববার ব্যাংক খোলার পরও টাকা না আসায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

সচিবের আশ্বাসের বাণী (Secretary's Assurance)

মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশরাত চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্বস্ত করে বলেন, "ইতোমধ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামীকালের (সোমবার) মধ্যেই সব সুবিধাভোগী তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা পেয়ে যাবেন।" বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা (Freedom Fighter's Allowance) বিতরণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের বিশেষ সুযোগ-সুবিধাসমূহ

১. উৎসব ও অন্যান্য ভাতা (Festival & Other Allowances): সম্মানি ভাতার পাশাপাশি বছরে দুটি ঈদ/উৎসব ভাতা, মহান বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) উপলক্ষে বিশেষ ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) উপলক্ষে বার্ষিক ভাতা প্রদান করা হয়।

২. বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা (Free Medical Service): দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাশলেস বা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পান। বিশেষায়িত সেবা এবং ওষুধের জন্যও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

৩. রেশন সুবিধা (Ration Facility): অসচ্ছল ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য সরকার নামমাত্র মূল্যে বা বিশেষ কোটায় খাদ্যশস্য (চাল, আটা ইত্যাদি) প্রদানের ব্যবস্থা রেখেছে।

৪. বাসস্থান নির্মাণ (Housing Support): ‘বীরনিবাস’ প্রকল্পের আওতায় অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে আবাসন বা পাকা ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার।

৫. যাতায়াত সুবিধা (Travel Privileges): বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআইডব্লিউটিসি (ফেরী/লঞ্চ) এবং বিআরটিসি বাসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে বা সুলভ মূল্যে যাতায়াত করার বিশেষ পাস রয়েছে।

৬. চাকরি ও শিক্ষা কোটা (Job & Education Quota): বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সরকারি চাকরিতে এবং সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটা সংরক্ষিত থাকে।

৭. রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন (State Funeral): একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনারসহ রাষ্ট্রীয় পূর্ণ মর্যাদায় দাফন বা শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সুবিধা ও ভাতার তালিকা (২০২৬)
সুবিধার নাম (Service Type) বিবরণ (Description)
মাসিক সম্মানি ভাতা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০,০০০/- টাকা (জিটুপি পদ্ধতি)।
উৎসব ও নববর্ষ ভাতা দুই ঈদে ১০,০০০/- করে এবং বৈশাখীতে ৫,০০০/- টাকা।
বিনামূল্যে চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালে বিশেষ কেবিন ও ওষুধ সুবিধাসহ চিকিৎসা।
বীরনিবাস প্রকল্প অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্থায়ী পাকা বাড়ি নির্মাণ।
শিক্ষাবৃত্তি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও উত্তরাধিকারীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি।



এসআর