পূর্বাচলে খুলে গেল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার দুয়ার। আজ সকালে উদ্বোধনের পরেই সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয় মেলার গেইট। দর্শনার্থী ও ক্রেতারা বলছেন, বিগত বছরের তুলনায় এবারের মেলা অনেকটাই ব্যতিক্রম। আর ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের আকর্ষণ করা।
এবার মেলায় অংশ নিয়েছে তুরস্ক, সিঙ্গাপুরসহ মোট ১১টি দেশের বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্টসহ ৩২৭টি স্টল।
শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। এসময় তিনি বলেন, এবারের মেলায় জোর দেয়া হচ্ছে, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সংযোগ স্থাপনে। এসময় তিনি পেপার ও প্যাকেজিং পণ্যকে ২০২৬ সালের বর্ষ পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, ‘এসব মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংক ইমেজ শক্তিশালী হয় এবং দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণ তৈরি হয়। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে যা ভোক্তার সঙ্গে উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করে চলেছে। বাণিজ্য মেলায় উদ্যোক্তাগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য ও সেবার গুণগত-মান উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন। ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বাজার চাহিদার বিশ্লেষণ, দর কষাকষি ও অর্ডার গ্রহণের মাধ্যমে তারা বাণিজ্যিক সুফল অর্জন করেন।’
এসময় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রশাসক জানান, ৭৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ২১টি দেশে বাণিজ্যিক মিশন কাজ করছে যা বৃদ্ধিতে নজর দিতে হবে সরকারকে। আমদানি ও রপ্তানি নীতি আগামীতে আরও সহজ করলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে রপ্তানি খাতে।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আব্দুর রহিম খান বলেন, ‘আরও কয়েকটি সম্ভাবনাময় দেশে আমাদের বাণিজ্যিক মিশন যদি তৈরি করা যায় তাহলে আমাদের ব্যবসায়ীদের পক্ষে বিদেশে মার্কেট লিংকেজে আমরা আরও বেশি সুবিধা পাবো।’
প্রতিবছর নতুন বছরের প্রথমদিন বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন হলেও এবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে ৩ জানুয়ারি করা হয়। মেলার পর্দা নামবে আগামী ৩১ জানুয়ারি।





