মহাস্থানগড়ে নির্মাণকাজে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা

আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগ | ছবি: সংগৃহীত
0

বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মহাস্থানগড় সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল দায়েরের অনুমতিও দিয়েছেন আদালত।

আজ (রোববার, ৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

এইচআরপিবির দায়ের করা জনস্বার্থের মামলায় ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিলের শুনানি শেষে আজ আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

শুনানিতে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘মহাস্থানগড়ে আগত নারীদের নামাজের স্থান ও ওয়াশরুম নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।’ তবে ওই এলাকায় নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব কাজের সুযোগ দিতে হাইকোর্টের রায় সংশোধনের আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে, রিটকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘মহাস্থানগড় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেখানে নির্মাণকাজ হলে ভবিষ্যতে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

আরও পড়ুন:

এ কারণে সরকারের আপিল দায়েরের অনুমতি দেয়া হলেও মহাস্থানগড়ের ভেতরে বর্তমানে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ যাতে না হয়, সে বিষয়ে স্থিতাবস্থার আদেশ দেয়ার আবেদন জানান তিনি। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার পটভূমিতে জানা যায়, ২০১০ সালে মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে তৎকালীন মাজার কমিটি মসজিদসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মহাস্থানগড় সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে এইচআরপিবি রিট দায়ের করে।

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করে মহাস্থানগড়ের বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। কমিটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি সংরক্ষণের স্বার্থে এর পূর্ব পাশে মসজিদ নির্মাণের সুপারিশ করে। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের পর প্রায় ১৫ বছর সেখানে বড় ধরনের কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সরকার।

এদিকে, আপিলের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আপত্তি জানিয়ে সলিসিটর অফিসে চিঠি দিয়েছেন বলে আদালতকে জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সরকারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম।

এনএইচ