ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠেছে আলবেনিয়ার ছাত্র আন্দোলন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে রাজধানী তিরানা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। ডাস্টবিন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে আন্দোলনকারীরা। তাদের দমাতে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
শিক্ষাখাতের ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য ও সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভে চালিয়ে যাচ্ছে আলবেনিয়ার শিক্ষার্থীরা। গতকাল (বুধবার, ১৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। প্রথমে তারা ভবনটিতে ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এসব ঘটনায় আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।
শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় নয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় অর্থ মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভবনগুলোতেও। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, ব্যাংক ও বহু যানবাহন ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভাকারীরা বলছে, এটি কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, সাধারণ মানুষের মুক্তির আন্দোলন।
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সরকারের দুর্নীতির কারণে অপরাধ এবং বৈষম্য বেড়েছে সব ক্ষেত্রে। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। সাধারণ মানুষ এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়।’
২০২৫ সালে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসেন এদি রামা। তখন থেকেই তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ অসন্তোষের জন্ম দেয়। এর মধ্যে প্রাকৃতিক লীলাভূমি দেশটির দক্ষিণ উপকূলে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের চুক্তির পর ছড়িয়ে পড়ে অস্থিরতা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি, উচ্চশিক্ষার ব্যয়, আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।
শিক্ষাখাতে অস্থিরতা ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ছাত্র আন্দোলন। ফ্রান্সে, স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অল্প সুযোগ-সুবিধা, জরাজীর্ণ ক্লাসরুম, ভঙ্গুর অবকাঠামোসহ নানা সংস্কারের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে ফরাসি শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন দমাতে তাদের ওপর চলে পুলিশের দমনপীড়ন। চলমান সংঘর্ষে বন্ধ হয়ে গেছে ফ্রান্সের কয়েকশো স্কুল।
উচ্চশিক্ষার ব্যয় ও শিক্ষাখাতে নানা অনিয়মের অভিযোগে চলতি মাসে বেলজিয়ামের লিজ শহরে শুরু হওয়া বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে রাজধানী ব্রাসেলস পর্যন্ত। সহিংসতার জেরে প্রায় প্রতিটি শহরে জনসমাগম নিষিদ্ধ করে জারি করা হয় কঠোর নিরাপত্তা।
এদিকে আবাসন সংকট আর উচ্চ ভাড়ার বিরুদ্ধে স্পেনে বিক্ষোভ গড়িয়েছে চতুর্থ সপ্তাহে। রাজধানী মাদ্রিদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও মিছিল বের করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।
ইউরোপের আরেক দেশ গ্রিসেও শিক্ষার খরচ আর জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের বিরুদ্ধে সরব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। প্রতিবাদে রাজধানী এথেন্সে পার্লামেন্ট ভবনের সামনেই বিক্ষোভ শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।




