যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের আগ পর্যন্ত এই বিশ্ব নিরাপদ নয়। গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ যখন চরমে, তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একের পর এক ঝাঁঝালো মন্তব্য করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ করবে ইউরোপ-পশ্চিমা নেতাদের এমন হুঁশিয়ারির ধার ধারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড দখলে যারা বাধা দিচ্ছে তাদের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত তিনি। তবে এড়িয়ে গেছেন সেনা পাঠিয়ে দ্বীপ দখলের পরিকল্পনার বিষয়টি।’ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, এনবিসি নিউজ বলছে গ্রিনল্যান্ডের পর ট্রাম্পের নজর কানাডার দিকে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানাতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প।
চলমান এই দ্বৈরথের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের দাভোসে শুরু হয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন। আগামী ২১ জানুয়ারি সেখানে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। এছাড়াও দাভোসে গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে আলোচনাও করেছে ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘দেখুন, আমার মনে হয় না তারা খুব একটা উচ্চবাচ্য করবে। আমরা দখল নিয়েই ছাড়ব। তাদের এটা মেনে নিতে হবে। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না। এমনিতে ডেনমার্কের লোকজন ভালো। আমি তাদের নেতাদের ভালোই চিনি।’
এখানেই শেষ নয়। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস ঘাঁটিতে বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড এক্স বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত কানাডা, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি অনুযায়ী বিমান মোতায়েন স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার জেরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপ নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। যদিও নর্থ আমেরিকান কমান্ড বলছে, ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি দমাতে পারছে না গ্রিনল্যান্ড ও এর ইউরোপীয় মিত্রদের। নিজদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই ঠিক করবেন বলে সাফ জানিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। আর, ট্রাম্প চাইলেই সীমা লঙ্ঘন করতে পারেন না বলে মন্তব্য ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকির বিপরীতে মহড়া চালাতে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠিয়েছে ডেনিস সরকার। এছাড়াও, চলমান সংকট প্রতিরোধে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস রাসমুসেন বলেন, ‘আমাদের সবার আন্তর্জাতিক আইন প্রতি বিশ্বাস রাখা উচিত। সবাই সোচ্চার হলে ট্রাম্প বুঝতে পারবেন, এই পথে তিনি অগ্রসর হতে পারবেন না। গ্রিনল্যান্ড দখলের আশা ভুলতে হবে তাকে। আমরা ২০২৬ সালে বাস করি। মানুষের সঙ্গে আপনি ব্যবসা করতে পারেন, কিন্তু নিয়ম উল্টে দিতে পারেন না। কাজেই এই পথে ভুলে যান।’
গ্রিনল্যান্ড দখলে বিরোধিতার জেরে ট্রাম্পের হুমকির সমালোচনা করেছেন ফ্রান্স ও জার্মানির অর্থমন্ত্রী। ব্রাসেলসে বৈঠক শেষে একই প্রতিক্রিয়া ডেনিশ অর্থমন্ত্রীরও।
যদিও ভিন্ন সুর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কণ্ঠে। গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন- এমনটা বিশ্বাস করেন না যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, আরও বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক হুঁশিয়ারির বিপরীতে কোনো পদক্ষেপ নেবে না যুক্তরাজ্য।
তবে, ইউরোপের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির মন্তব্য, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্কারোপ করলে তা চূড়ান্ত বোকামি হবে।





