এথেন্সে দায়িত্ব পালনকালে এবং দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিভিন্ন অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন গিলফয়েল। মঙ্গলবার সকালে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে গিলফয়েলের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জাকারিয়া বলেন, গিলফয়েল দলের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একজন সম্পদ ছিলেন এবং প্রশাসন তার শুভকামনা জানায়।
এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, আমরা এতে সন্তুষ্ট নই।' অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনায় ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গিলফয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিলফয়েল অতিথিদের বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিক সরকারকে দুর্বল করে দিতে পারে। এ ছাড়া গ্রিসের একটি নির্দিষ্ট নির্মাণ ও জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করা এবং সেই প্রতিষ্ঠানের লবিস্টকে গোপন কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সিনেটে পদ অনুমোদনের শুনানির আগে ট্রাম্পের এক তহবিলদাতার কাছে নিজের এক লাখ ডলারের ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের বিনিময়ে তাকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার প্রস্তাব সংক্রান্ত বার্তার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
অভিযোগের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে গিলফয়েল বলেন, 'এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি আমার সুনাম, সম্মান ও সততা জোরালোভাবে রক্ষা করব। কয়েক দশক ধরে দেশসেবার মাধ্যমে আমি যে অবস্থান তৈরি করেছি, এমন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তা কলঙ্কিত হতে দেব না।'
গিলফয়েলের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, যে অর্থের কথা বলা হচ্ছে, তা মনোনয়ন পাওয়ার আগে গিলফয়েলের জনসমক্ষে উপস্থিতি ও বক্তব্য দেয়ার বকেয়া পারিশ্রমিক ছিল। এ ছাড়া ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তারা জানান, প্রতিটি সফরের আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিদর্শক জেনারেল এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস এবং সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য জিন শাহীনসহ শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে গ্রিসের বিরোধী দলগুলো গিলফয়েলকে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জিওস গেরাপেত্রিতিস জানিয়েছেন, অন্য সব রাষ্ট্রদূতের মতোই তার সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে এবং তাকে আলাদাভাবে তলবের প্রয়োজন ছিল না।
সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক ও ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক প্রসিকিউটর কিম্বার্লি গিলফয়েল এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান গভর্নর গেভিন নিউসামের স্ত্রী ছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে বাগ্দান সম্পন্ন করেছিলেন।





