যুদ্ধক্ষতির বিরল এই সরকারি বিবরণীতে দেখা গেছে, মার্কিন বাহিনীর ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উড্ডয়নযানের তালিকায় এফ-৩৫এ লাইটনিং ২ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অত্যাধুনিক কিছু যুদ্ধবিমান রয়েছে। প্রতিটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দাম ৩ কোটি ডলারের বেশি। অন্যদিকে ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের প্রতিটির আনুমানিক দাম ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এ ছাড়া আমেরিকার সবচেয়ে অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ-এর মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।
'ইউএস এয়ারক্রাফট কমব্যাট ড্যামেজ ইন অপারেশন এপিক ফিউরি: কনসিডারেশন্স ফর কংগ্রেস' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান চলাকালে মার্কিন বাহিনী ১২টি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং ২ ফাইটার বিমান, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ স্থল-হামলাকারী বিমান এবং সাতটি কেসি-ইউএস স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের ভুলবশত হামলায় (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। পরের মাসে ইরানের আকাশে আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। এ ছাড়া গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মোয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের বিমান হামলায় অন্তত আটটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ই-৩ সেন্ট্রি আকাশযান সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো ২ বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন ২ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন উচ্চ-উচ্চতার চালকবিহীন নজরদারি বিমান, তিনটি এমকিউ-১ বহুমুখী ড্রোন এবং ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানটি বোয়িং ৭০৭ লাইনারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি পুরোনো কিন্তু অত্যন্ত জরুরি প্ল্যাটফর্ম, যার প্রতিটির মূল্য ২৭ কোটি ডলার। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাদের কাছে এ ধরনের মাত্র ৩২টি সচল বিমান ছিল।
সরাসরি লড়াইয়ে মার্কিন বাহিনী একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক সামুদ্রিক হেলিকপ্টারও হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও পরিবর্তন হতে পারে। কারণ যুদ্ধের কিছু তথ্য এখনো অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে এবং অভিযান চলমান থাকায় কিছু ঘটনার দায় নির্ধারণ করা কঠিন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কিছু উড়োজাহাজ মেরামতের পর আবারও সার্ভিসে ফিরতে পারে।
এদিকে ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যয় মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ব্যয় ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার উল্লেখ করা হলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে। হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
—এনটিভির প্রতিবেদনে অবলম্বনে





