ক্রিস্টা পাইক (৫০) নামের ওই নারী টেনেসির একমাত্র নারী কয়েদি, যিনি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় ছিলেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী তার শরীরে পরপর দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল নামের তীব্র বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশন পুশ করা হয়। কিন্তু অলৌকিকভাবে তার হৃৎস্পন্দন সচল থাকে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে পাইকের আইনজীবীরা আদালতে একটি জরুরি আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা বলেন, ‘পাইক জ্ঞান হারিয়েছেন সত্য, তবে তার হৃৎস্পন্দন সচল আছে এবং তিনি জোরে নাক ডাকছেন।’ এরপরই বিষ প্রয়োগের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয় এবং তাকে কারাগারের বাইরে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
এই ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ফাঁসের পর চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে টেনেসি কারাকর্তৃপক্ষ। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ বছর নির্ধারিত পরবর্তী সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন তিনি।
আইনজীবীদের অভিযোগ, পাইকের শরীরে বিষ প্রয়োগের সময় শিরা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এবং একপর্যায়ে তার শিরা ফেটে যায়। চিকিৎসকদের ধারণা, বিষাক্ত রাসায়নিকটি পাইকের রক্তে সঠিকভাবে না পৌঁছানোর কারণেই তার মৃত্যু হয়নি। তবে বিষ প্রয়োগের পর চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় তার স্থায়ী মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ক্রিস্টা পাইক ও তার তৎকালীন প্রেমিক মিলে কলিন স্লেমার (১৯) নামের এক তরুণীকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেন। স্লেমারের বুকে শয়তান উপাসক গোষ্ঠীর প্রতীক খোদাই করা হয়েছিল, যা নিয়ে সে সময় ব্যাপক তোলপাড় তৈরি হয়। ১৯৯৬ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় ছিলেন। গত বুধবারের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি একটি জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, মার্কিন ইতিহাসে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুদণ্ড প্রথা পুনর্বহাল করার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ৬৬৩ জন পুরুষের বিপরীতে মাত্র ১৮ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের মাত্র এক শতাংশ।





