লাতিন আমেরিকার ডানপন্থি অক্ষকে কাছে টানছে যুক্তরাষ্ট্র, সফরে মার্কো রুবিও

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও | ছবি: এএফপি
0

লাতিন আমেরিকার মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে তিন দেশ সফরে বেরিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরের প্রথম ধাপে গতকাল মঙ্গলবার কলম্বিয়ার ব্যারাঙ্কুইলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এই সফরের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহের শেষদিকে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া এবং পেরুর প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রওয়ানা দেয়ার আগে মার্কো রুবিও জানান, ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই তিনটি দেশের সঙ্গেই সুনির্দিষ্ট মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘সীমান্তপারের অপরাধমূলক সন্ত্রাসবাদ দমন এবং অর্থনৈতিক চুক্তি উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে পশ্চিম গোলার্ধের সাম্প্রতিক মেরুকরণেরই অংশ।’

বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ২০০৯ সালে চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা পেরুর শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার এখন বেইজিং, যা যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে। তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডনরো ডকট্রিন’ কৌশলের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

গত আগস্টে দায়িত্ব নেয়া কলম্বিয়ার কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর নীতি থেকে সরে এসে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, ড্রোন প্রযুক্তি ও রাডার সহায়তাসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অংশীদার হিসেবে কলম্বিয়াকে ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ক বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক সই হয়।

তবে এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন কলম্বিয়ার বামপন্থি রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রোর মিত্র ইভান সেপেদা। একে দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব সমর্পণের শামিল বলে অভিহিত করেন তিনি। একই দিন দে লা এসপ্রিয়েলা দেশে অস্ত্র বহনের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দেওয়ায় তা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এএম