টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে মিলে জানান, ফকল্যান্ডে আর্জেন্টিনার প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর আইন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি মহাকাশ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা সমন্বয়ে একটি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন এবং ফকল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত তিয়েরা দেল ফুয়েগো নৌঘাঁটির অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ প্রায় দুই শতাব্দী ধরে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে বুয়েনস এইরেস। তবে ১৯৮২ সালের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর থেকে অঞ্চলটি ব্রিটেনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনার নতুন এ উদ্যোগের পর ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ফকল্যান্ডের বিষয়ে তাদের অবস্থান অটল।
দ্বীপপুঞ্জটির উত্তরাঞ্চলে সি লায়ন তেলক্ষেত্র পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে নাভিতাস পেট্রোলিয়াম ও রকহপার এক্সপ্লোরেশন। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইসরাইলি বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তাদের কাছে বৈধ জ্বালানি লাইসেন্স রয়েছে এবং মিলের এই সিদ্ধান্তে তাদের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।
এর আগে ফকল্যান্ড ইস্যুতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের প্রশংসা করায় নিজ দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মিলে। জুবান কর্ডোবা অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সাম্প্রতিক জরিপে তার প্রতি জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০২৭ সালের পুনর্নির্বাচনের আগে নিজের অবস্থান সংহত করতেই মিলে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মিলের এ পরিবর্তনের প্রশংসা করে আর্জেন্টিনার বামপন্থি নেতা হুয়ান গ্রাবোইস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘মিলের এই ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তনকে স্বাগত; তিনি অবশেষে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক অবস্থানে ফিরে এসেছেন।’





