ফকল্যান্ডে তেল উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞার হুমকি আর্জেন্টিনার; অধিকার রক্ষায় অনড় যুক্তরাজ্য

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে তেল উত্তোলনে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে দেয়া এক জাতীয় ভাষণে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন, যা লন্ডনের সঙ্গে বুয়েনস এইরেসের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথা জানানোর কয়েক দিন পরই এমন বক্তব্য দিলেন মিলেই। দ্বীপপুঞ্জটিকে আর্জেন্টিনা ‘লাস মালভিনাস’ নামে ডেকে থাকে। প্রায় ৪৪ বছর আগে এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্যের কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

মিলেই বলেন, ‘দ্বীপটিতে দুটি তেল অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা আর্জেন্টিনার জাতীয় স্বার্থের ওপর বড় হুমকি।’ তিনি আরও জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জবাব কঠোর করতে কংগ্রেসে একটি জরুরি জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা বিল পাঠাচ্ছেন। এই আইনের মাধ্যমে দ্বীপপুঞ্জে অনুমোদনহীন কাজের বিরুদ্ধে শাস্তি জোরদার, সরবরাহকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ এবং আর্জেন্টিনার প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার আইনি পরিধি বাড়ানো হবে।

এদিকে ১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে জানান, সেখানকার বাসিন্দারা ব্রিটিশ হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মিলেইয়ের এই বক্তব্য ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের চেয়ে আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে বেশি ধারণা দেয়। ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার সম্পূর্ণ ও অটুট।’ এর আগে জিবি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্য আবার লড়াই করতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে।

ফকল্যান্ডের প্রায় ১৪০ মাইল উত্তরে অবস্থিত সি লায়ন প্রকল্পে তেল উন্নয়ন কার্যক্রম আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে তেল আবিবের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান নাভিতাস পেট্রোলিয়াম এবং এতে লন্ডন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রকহপার এক্সপ্লোরেশনের ৩৫ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। রকহপারের হিসাব অনুযায়ী, সি লায়ন প্রকল্পে প্রায় ১৭০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে, যা দিয়ে বিশ্বের ১৭ দিনের তেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। মিলেইয়ের বক্তব্যের পর শুক্রবার সকালে রকহপারের শেয়ারমূল্য ৮ শতাংশ কমে যায়।

এএম