বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বৃহস্পতিবার জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাতাস, চাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে দিচ্ছে। সংস্থার প্রধান সেলেস্তে সাউলো জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে—অর্থাৎ গত চার দশকের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।’
এল নিনো চলতি বছরের শেষ দিকে চূড়ান্ত তীব্রতায় পৌঁছাবে। তবে এর প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্তও থাকতে পারে। সমুদ্রের তাপ ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে পরের বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ায়। ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো ২০২৪ সালকে রেকর্ড উষ্ণতম বছর বানিয়েছিল। সাউলো বলেন, ‘এই রেকর্ড ভাঙলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।’
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনো বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ধরনে বড় প্রভাব ফেলবে। এর সঙ্গে বন্যা, খরা ও চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়বে। এল নিনো জলবায়ু পরিবর্তনের ফল নয়। তবে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে ইতিমধ্যে উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে চরম আবহাওয়া তীব্রতর করবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো আমাদের চোখের সামনেই অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিজ্ঞান স্পষ্ট—পৃথিবী অজানা জলে প্রবেশ করেছে এবং সেই জল উষ্ণ হয়ে উঠছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে, তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশ্ব চরম আবহাওয়ার বিপজ্জনক অঞ্চলে রয়েছে।’
সেলেস্তে সাউলো বলেন, এই ব্যতিক্রমী এল নিনো বিশ্বজুড়ে সম্প্রদায় ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ইতিমধ্যে খরা ও বন্যার কারণে বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে। এল নিনো তীব্র হলে এসব প্রভাব আরও বাড়বে। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানি খাতকে প্রস্তুতি নিতে বলেন।
এল নিনো সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং নয় থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। ডব্লিউএমও একে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী বা অত্যন্ত শক্তিশালী—এই চার স্তরে ভাগ করে। বর্তমান পরিস্থিতি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। মে থেকে জুলাইয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রীয়-পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সাপ্তাহিক মান ২ দশমিক ২ থেকে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। কিছু এলাকায় সমুদ্রের নিচের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল। সেপ্টেম্বর-নভেম্বর সময়ে প্রায় সব স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউএমও।





