জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত বছরই এই তাপমাত্রা সীমা অতিক্রমের আশঙ্কার কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে এবারই প্রথম কোনো জাতিসংঘ সংস্থা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করল। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা একমত যে প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা পৃথিবীর জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে প্রায় ২০০টি দেশ এই সীমা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সালের সাপেক্ষে পৃথিবীর তাপমাত্রা ইতিমধ্যে প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে।
ইউনেপের নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসন বলেন, ১.৫ ডিগ্রির ওপরে থাকার কোনো ইতিবাচক দিক নেই। তবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য এখনো আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এখন শুধু কৌশল পরিবর্তন করে ওপর থেকে নিচে নামার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে সরিয়ে নেয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোই তাপমাত্রা পুনরায় কমিয়ে আনার একমাত্র পথ।
ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের গবেষক রিচার্ড বেটস এই প্রতিবেদনকে একটি কঠিন বাস্তবতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন। তবে এই প্রতিবেদনের চরম বার্তার কারণে জলবায়ু কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জেসপার ইনভেন্টর বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা হলেও ১.৫ ডিগ্রির আশা ছেড়ে দেয়ার সুযোগ নেই। ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই বার্তা বিশ্ববাসীকে নিষ্ক্রিয় বা উদাসীন করে তুলতে পারে।
প্রচারণা সংস্থা সিআইইএল-এর প্রতিনিধি লিলি ফুহর বলেন, প্রযুক্তি নির্ভর কাল্পনিক সমাধানের ওপর ভরসা না করে এখনই কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো প্রয়োজন।





