যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুর্বল হচ্ছে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা

মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমান থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নামাচ্ছেন সামরিক কর্মীরা
মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমান থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নামাচ্ছেন সামরিক কর্মীরা | ছবি: রয়টার্স
0

ইরান যুদ্ধে অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এতে চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সামরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে তুর্কিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামরিক পরিকল্পনাবিদদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রের এই তীব্র ঘাটতির কারণে ইউরোপজুড়ে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ড তাদের পরিচালন পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে স্বশাসিত দ্বীপটির সুরক্ষায় ওয়াশিংটন তাদের জরুরি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা পুরোপুরি কার্যকর করতে পারবে না।

কর্মকর্তারা জানান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানি থেকে আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক অবস্থানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা পুনরায় পূরণ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। ইউরোপে পিএসি-৩ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর এবং আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেমসের (আটাকমস) মজুত অত্যন্ত সংকটজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ ছাড়া থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ড্রোন বিধ্বংসী সরঞ্জামও মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মোতায়েনের কারণে রাশিয়ার ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে থাকা ইউক্রেনকে আকাশপ্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো গোলাবারুদের ঘাটতিতে পড়েছে—এমন দাবি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব সামরিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত রসদ রয়েছে।

এএম