আল জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মোট অন্তত ৪,১৮৯টি পোস্ট করেন। গড়ে দিনে ২৪টি, অর্থাৎ প্রায় প্রতি ঘণ্টায় একটি। এর মধ্যে ১৩টির মধ্যে ১টিতে ইরান প্রসঙ্গ এসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কোন সময়ে বেশি পোস্ট, কী লিখেছেন বেশি
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সব সময়েই পোস্ট করেছেন, তবে ইরান বিষয়ে তার পোস্ট সবচেয়ে বেশি এসেছে ওয়াশিংটনের সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের পোস্টে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ ছিল ‘Iran’—উল্লেখ ছিল ৫১০ বার। এরপরেই এসেছে তার নিজের নাম ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম। প্রতিবেদনের মতে, ট্রাম্প ২২১ বার নিজেকে ‘President Donald J Trump’ বা ‘President DJT’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুদ্ধ শুরুর আগে: চুক্তির ডাক ও হুঁশিয়ারি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্রাম্প ১৭টি পোস্টে ইরান প্রসঙ্গ এনেছিলেন। এর মধ্যে ছিল আলোচনার ডাক, পাশাপাশি হুঁশিয়ারিও। একাধিকবার তিনি ইরানকে চুক্তি করতে বলেন। ২৮ জানুয়ারি তিনি লেখেন, ইরানের দিকে ‘একটি বিশাল আর্মাডা’ যাচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি: যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা ও বড় বড় দাবি
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর কথা জানায়। এরপর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ভিডিও দিয়ে ইরানে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরুর কথা বলেন। একই দিন পরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিষয়ে একটি পোস্ট করেন—যা আল জাজিরা ট্রাম্পের পোস্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পরবর্তী দুই সপ্তাহে ট্রাম্প আরও ৪০টি পোস্ট দেন। সেগুলোতে তিনি হামলার পক্ষে যুক্তি দেন এবং শর্ত হিসেবে ‘ইস্পাতের দেয়াল’ ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আল জাজিরার হিসেবে, ১০ মার্চের আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির কথা উল্লেখ করেননি।
হরমুজ প্রণালি, যুদ্ধবিরতি আর নৌ-অবরোধ
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলের শুরুতে ট্রাম্প চূড়ান্ত হামলার কথা বললেও পরে কিছু শর্তে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির ইঙ্গিত দেন। পরে তিনি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন—এবং সেটিকে পরে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ নামে উল্লেখ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা উল্লেখ করে আল জাজিরা লিখেছে, সেটি দ্রুতই ভাঙতে শুরু করে। এরপর জুলাইয়ে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ বলে পোস্ট করেন এবং আবার নৌ-অবরোধের কথা বলেন এমনটাই আল জাজিরার বর্ণনা।
আগস্ট: অর্থনৈতিক চাপের দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে এসে ট্রাম্প যুদ্ধকে অর্থনৈতিক চাপের দিকে ঠেলে দেন। একপর্যায়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেন এবং ইরানকে ‘জীবনরেখা’ জোগালে অন্যান্য দেশকেও পরিণতি ভোগ করতে হবে এ ধরনের হুঁশিয়ারি দেন বলে আল জাজিরা লিখেছে। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন দেশের ৬০টি প্রতিষ্ঠান-ব্যক্তিকে লক্ষ্য করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।





