সবাইকে অবাক করে দিয়ে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে সমঝোতায় রাজি হয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মেটা। ধারণা করা হয়েছিল, মামলাটি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আদালতে চলবে তীব্র আইনি লড়াই। এমনকি মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গকেও সাক্ষ্য দিতে হতে পারে বলে জল্পনা ছিল। কিন্তু মাত্র পাঁচ দিনের শুনানির পরই ইতি ঘটে এই মামলার। অবশ্য এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এক অভিভাবক।
ভুক্তভোগী এক অভিভাবক বলেন, অনেক অভিভাবকের মতো আমি এ সমঝোতায় সন্তুষ্ট। এর মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
মূলত মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা। আর মামলায় মেটা হেরে গেলে সম্ভাব্য জরিমানার পরিমাণ হতে পারত কয়েক'শ কোটি ডলার। সেই তুলনায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮'শ কোটি ডলারের সমঝোতা মেটার জন্য অনেক কম।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোনটা বলেন, আমরা সন্তানদের দৈনন্দিন জীবনের নানা বিপদ থেকে রক্ষা করি। কিন্তু মেটা যেসব ক্ষতি গোপন করে ও মিথ্যাচার করে অথবা আমাদের সন্তানদের আকৃষ্ট করার জন্য তৈরি করা স্বয়ংক্রিয় ডিজাইন থেকে শিশুদের রক্ষা করা যায় নি। এই মীমাংসার মাধ্যমে সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তারা যে কোন অন্যায় করছে, এ বিষয়টি স্বীকার করেনি মেটা। এদিকে, সমঝোতার অংশ হিসেবে এখন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে কিশোরদের জন্য বেশকিছু নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করবে মেটা। এর মধ্যে অন্যতম হলো—দুই প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা। কিশোর ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এটি ডিফল্ট সেটিং হিসেবে থাকবে। এছাড়াও, রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এবং স্কুলে ক্লাস চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্তও নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের পোস্ট ও কন্টেন্টে কতজন লাইক দিয়েছে লুকিয়ে রাখা হবে সেই সংখ্যাও ।
এদিকে, মেটা জানিয়েছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার বেশিরভাগ আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালু করা হবে। আর ব্যবহারকারীদের বয়স শনাক্ত করার নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়নে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এই সমঝোতায় মেটার কৌশলে পরিবর্তন এনেছে বলেও অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
ইউসি বার্কলে ল স্কুলের অধ্যাপক স্ট্যাভরোস গ্যাডিনিস বলেন, এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, তরুণরা কি কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে? সেটা সময়ই বলে দেবে। তাই দেখতে হবে এই পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট কিনা। আরও কোন পদক্ষেপের প্রয়োজন কিনা?
তবে, নিরাপত্তার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যখন আরও বেশি নিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠবে; তখন কিশোর-কিশোরীরা কি আগের মতো এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে কিনা সেটিই হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।





