গিনির রাজধানীতে বর্জ্য ধসে নিহত অন্তত ৩০

ধসে পড়া বর্জ্যের স্তূপ
ধসে পড়া বর্জ্যের স্তূপ | ছবি: সংগৃহীত
0

গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে বর্জ্য ফেলার একটি স্থানে ধস নেমে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে ভারী বৃষ্টির পর বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের স্তূপ ধসে আশপাশের তাঁবু ও ঝুপড়িঘর চাপা পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

গতকাল (রোববার, ২৩ আগস্ট) দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে কোনাক্রির গবেসিয়া কমিউনে এ বর্জ্যধসের ঘটনা ঘটে। এতে ৩০ জন নিহত, ছয়জন গুরুতর আহত এবং আরও ১৬ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

ধসের পর উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালান। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ধসের নিচে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চাপা পড়ে থাকতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শী সিরে দিয়ালো সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় তিনি তার পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। এখন আমি শুধু সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করতে পারি।’

ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্জ্য ভাগাড়টি বন্ধ করে বর্জ্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল সরকার। দেশটির আঞ্চলিক প্রশাসনবিষয়ক মন্ত্রী জেনাব তুরে বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন।

গিনিতে বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলছে। ঘনবসতিপূর্ণ ও দুর্বল অবকাঠামোর শহরগুলোতে এ সময়ে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ। তিনি ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা ও উদ্ধার তৎপরতা তদারক করেন। একই সঙ্গে জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গিনির প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ দৈনিক ৪ দশমিক ২০ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করেন। দেশটিতে প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ হলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও দারিদ্র্য দীর্ঘদিনের সমস্যা।

এএইচ