পেজেশকিয়ান বলেন, মূলনীতি ও নীতিবোধ বজায় রেখে কীভাবে বর্তমান অচল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যায় এবং প্রতিপক্ষকে নতুন হামলা চালানো থেকে বিরত রাখা যায়, তা নিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা প্রতিদিন আলোচনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়; কিন্তু লড়াই আবার শুরু হতে পারে—এমন দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কারণ, সংঘাতের শঙ্কা থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, সেখানে দাসত্ব গ্রহণ করা বা তেহরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার মতো কোনো ধারা নেই। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, যা চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার পথ তৈরি করে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়ে জটিলতায় দর-কষাকষি থমকে গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপে শরিক না হতে অন্য দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন মোহসেন রেজায়ি। রাষ্ট্রীয় টিভিতে তিনি বলেন, ‘যে দেশই আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে অংশ নেবে, তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে।’ তিনি যোগ করেন, তারা সরে না দাঁড়ালে তাদের স্বার্থে আঘাত হানবে ইরান।
রেজায়ি আরও বলেন, ইরান এ পর্যন্ত কেবল সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন অর্থনৈতিক কোনো প্রতিষ্ঠানে এখনো আঘাত করেনি। তবে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিলে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে থাকা মার্কিন তেল ও অর্থনৈতিক কোম্পানিগুলোতে হামলা চালানো হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো পদক্ষেপ নিলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ‘ভূমিকম্পের মতো’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের এ অর্থনৈতিক অবরোধে চীনসহ অন্যান্য দেশকে শরিক হতে চাপ দিচ্ছে। তবে চীন শুরু থেকেই এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত মিটবে না। অন্যদিকে, ইরানের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।





