প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি তার বাবা ও বড় ভাই উইলিয়ামের পর ব্রিটিশ রাজপারিবারের অন্যতম উত্তরাধিকারী ছিলেন। তবে রাজ পরিবারের ঐতিহ্য ও আভিজাত্যে হ্যারির ছিলো না তেমন আগ্রহ। ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কঠোরভাবে লড়তে হয়েছে তাকে। রাজকীয় জীবনের পেছনে ছিলো বিষণ্ণতা ও অন্তর্দ্বন্দ্বের গল্প।
বিশ্বের অন্যতম হাই প্রোফাইল ব্যাচেলর হিসেবে মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের সঙ্গে প্রিন্স হ্যারির প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি ছিলো না। ২০১৮ সালে ঐতিহাসিক দুর্গ উইন্ডসর ক্যাসলে বিয়ে করেন হ্যারি ও মেগান। এ বিয়েকে রাজপরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে বিয়ের কিছু দিন পরই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হ্যারি ও মেগানের দূরত্ব বাড়তে থাকে।
এর ঠিক দুই বছর পর ২০২০ সালে তারা রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। যুক্তরাজ্য ছেড়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। এরপর থেকেই রাজপারিবারে সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর বাকিংহাম প্যালেসের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটা ছিন্ন হয়ে যায় তাদের।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রায় ২০ মাস পর ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা রাজা চার্লসের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য সাক্ষাৎ করতে যুক্তরাজ্যে আসেন হ্যারি। গেল একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেগান ও দুই সন্তানসহ দেখা করে রাজা চার্লসের সঙ্গে। মূলত এর মাধ্যমেই রাজপরিবারে সঙ্গে তার সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে হ্যারির।
রাজপরিবার ছাড়ার দীর্ঘ ৬ বছর পর আবার যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে যাচ্ছেন তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের তথ্য মতে, চলতি মাসের শেষদিকে দুই সন্তানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি-মেগান দম্পতি। তবে তারা রাজপরিবারের কোনো বাসভবনে থাকবেন না। এমনকি তারা রাজপরিবারের সদস্য নয়, বরং সাধারণ মানুষ হিসেবে বসবাস করবেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বাকিংহাম প্যালেস।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় হ্যারি ও মেগান বিভিন্ন গণমাধ্যমের কোটি ডলারের প্রকল্পে যুক্ত হন। যেখানে ব্রিটিশ রাজপরিবার ও তার ব্যক্তিগত অনেক তথ্য তুলে ধরেন হ্যারি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। হলিউডেও তারকাখ্যাতি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন হ্যারি ও মেগান।
বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র ও হ্যারির আত্মজীবনীতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের নানা বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেন হ্যারি। এমনকি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও তুলেছিলেন এ দম্পতি।





