সামরিক হামলার পর অর্থনৈতিক চাপ, ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের ট্রাম্পের হুমকি

তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে আঁকা দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হাঁটছেন মানুষ
তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে আঁকা দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হাঁটছেন মানুষ | ছবি: রয়টার্স
0

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও লেনদেন পরিচালনাকারী যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টানা সামরিক হামলার পর এবার তেহরানের ওপর সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপ তৈরির নতুন কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (বুধবার, ১৯ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ আমি যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের ঘোষণা দিচ্ছি। যে দেশই ইরানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেবে, তাদের মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।’ তবে কোন কোন দেশের ওপর কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

টানা দুই সপ্তাহ রাতের পর রাত বিমান হামলা চালিয়েও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে না পেরে সম্প্রতি সামরিক অভিযান স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের মূল্যায়ন ও মার্কিন গোলাবারুদের মজুত কমে আসার খবরের মধ্যে কৌশল বদলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় হোয়াইট হাউস। সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে। তেহরানের অর্থায়ন বন্ধ করতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ পরিচালনা করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি বাড়িয়ে তেল রপ্তানি ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ট্রাম্প জানান, তেল চোরাচালান, সোয়াপ লাইন, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মানি এক্সচেঞ্জ ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত তৈরি হতে পারে। আগামী মাসেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসার কথা রয়েছে। গবেষণা সংস্থা ‘ইউরেশিয়া গ্রুপ’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউ বলেন, নতুন পদক্ষেপ ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের লক্ষ্য করে নিতে হবে, তবে চীনের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের জানান, সামরিক চাপ বা নিষেধাজ্ঞা ইরানের মনোবল ভাঙতে পারবে না। আলোচনার পথ খোলা থাকলেও তা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ নয়। এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তুলে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যদিও তেহরান এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে ইরানের আমদানির ৩০ শতাংশের বেশি আসত আমিরাত থেকে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন বাহিনী। সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, প্রতি রাতে হরমুজ দিয়ে ১৫ থেকে ২০টি জাহাজের যাতায়াতে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্যে দেখা গেছে, ওই পথ দিয়ে চলাচল এখনো বেশ কম। ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিটরিনোভিচ বলেন, এ ধরনের অভিযান দিয়ে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা যাবে না।

এএম