গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে দেয়া এক রায়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিস্তৃত অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন। ওই রায়ের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংকুচিত করে দেয়া ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশটি বাতিল হয়ে যায়। রক্ষণশীল বিচারপতিদের অন্যতম স্যামুয়েল অ্যালিটো ওই রায়ের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, এই রায় এতটাই বিস্তৃত যে ‘বার্থ ট্যুরিস্ট’ অর্থাৎ যেসব নারী শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দেয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তাদের সন্তানরাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দমে না গিয়ে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আবারও এই বিষয়ে নতুন দুটি আদেশে সই করেন। প্রথম আদেশে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, শিশুর বাবা-মায়ের যেকোনো একজন যদি ‘নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে’ যুক্ত থাকেন, তবে শিশুটির নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয়া হবে না। দ্বিতীয় আদেশে বার্থ ট্যুরিজমের সন্দেহে বিদেশিদের ভিসা দেয়া বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। যদিও এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার আইনের অধ্যাপক অ্যামান্ডা ফ্রস্ট বলেন, ‘এসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেয়ার সুবাদে নাগরিক। বাবা-মায়ের কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড তাদের নাগরিকত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না।’ ওভাল অফিসে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘মানুষ এই বার্থ ট্যুরিজমকে ঘিরে ব্যবসা গড়ে তুলছে।’ তার দাবি, লাখ লাখ মানুষ এভাবে অন্যায়ভাবে সুবিধা নিচ্ছে। যদিও পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের অনুমান, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার এমন শিশু জন্ম নিয়েছে।
বার্থ ট্যুরিজম ছাড়াও নতুন আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ঐতিহাসিক ব্যতিক্রমগুলোর পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এত দিন কূটনৈতিক প্রতিনিধি (যেমন রাষ্ট্রদূত) ও দখলদার শত্রু সেনাদের সন্তানরা এই সুবিধার বাইরে ছিল। নতুন আদেশে বিদেশি সরকারের কর্মচারী এবং বিদেশি সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই বিষয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে মতবিভাজন রয়েছে। বুশ প্রশাসনের সাবেক বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন ইউ মনে করেন, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে ‘বিদেশি শত্রু বাহিনী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে। তবে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের অধ্যাপক স্যাম আরম্যান সতর্ক করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি অভিবাসীদের ‘শত্রু এলিয়েন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। নতুন এই নিয়মের আওতায় তাদের সন্তানরাও নাগরিকত্ব পেত না।
নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অভিবাসন আইনের অধ্যাপক রেচেল রোজেনব্লুম বলেন, তিনি অবাক হবেন যদি আদালতে এই আদেশ টিকে যায়। তার মতে, এটি ‘স্পষ্টতই অসাংবিধানিক’। তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের পরাজয় মেনে নিতে না পেরে একজন হতাশ রাষ্ট্রপতির মরিয়া পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে এটি।’





