পপুলিস্ট দলগুলোর মোকাবিলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম

পপুলিস্ট দলগুলোর মোকাবিলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম
পপুলিস্ট দলগুলোর মোকাবিলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম | ছবি: রয়টার্স
0

পাবের নানা ধরনের নাশতা নিয়ে আলোচনা কিংবা নিজের চেহারা নিয়ে রসিকতা—এভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পৌঁছাচ্ছেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। রিফর্ম ইউকের মতো পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী দলগুলো যেখানে বিশাল অনুসারী গড়ে তুলেছে, সেসব প্ল্যাটফর্মেই এখন সরব হয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাবেক আইনজীবী কিয়ার স্টারমারকে সরিয়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহামকে বেছে নেয়ার পেছনে ভোটারদের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের এই সক্ষমতাই ছিল লেবার পার্টির অন্যতম কারণ। মাত্র দুই সপ্তাহেই টিকটক, এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে তার ব্যতিক্রমী পোস্টগুলো কোটি কোটি ভিউ পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার বার্তাগুলো বিভাজন সৃষ্টির পরিবর্তে ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

বার্নহামের পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের সাবেক কৌশলগত যোগাযোগ পরিচালক এবং টিকটকের সাবেক কর্মকর্তা জেমস লায়ন্স বলেন, ‘বার্নহাম বামপন্থি গ্রিন বা রিফর্ম ইউকে-র থেকে ভিন্ন পথে হাঁটছেন। মেরুকরণের পরিবর্তে তিনি জনপ্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের কাজকে গুরুত্ব দিয়েও তিনি নিজেকে হালকা রাখতে পেরেছেন। এটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ, যা তিনি করে দেখাচ্ছেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কৌশল বার্নহামকে রিফর্ম ইউকে-র নেতা নাইজেল ফারাজের মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদী তিনি। এক্সে ২৩ লাখ, টিকটকে ১৫ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে ১০ লাখ অনুসারীর সঙ্গে ফারাজ বছরের পর বছর ধরে অভিবাসন ও অপরাধ নিয়ে ভিডিও পোস্ট করে আসছেন। জরিপে দীর্ঘদিন ধরে রিফর্ম এগিয়ে থাকলেও বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেই ব্যবধান কমে এসেছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জন হিলিকে সঙ্গে নিয়ে পাবে ঢুকে আতিথেয়তা খাতে করছাড়ের ঘোষণা দেন বার্নহাম। এই ভিডিও এক্সে ৪৭ লাখ ভিউ পেয়েছে। ওই ভিডিওতে তিনি ‘মনস্টার মাঞ্চ’ নামের একটি বিশেষ স্বাদের নাশতার প্রতি নিজের দুর্বলতার কথাও প্রকাশ করেন। রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা কেমি বেডেনক যখন বার্নহামকে ‘এক জোড়া চোখের পাপড়ি ও কালো টি-শার্ট’ বলে কটাক্ষ করেন, তার জবাবে বার্নহাম নিজের ভিডিও পোস্ট করে বলেন, ‘আসলে এটা গাঢ় নীল রঙের।’ লায়ন্সের মতে, ৯ বছর পার্লামেন্টের বাইরে ও ১৬ বছর সরকারের বাইরে থাকার পর এই ফিরে আসা তাকে ‘প্রথম ছাপ ফেলার দ্বিতীয় সুযোগ’ এনে দিয়েছে।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক রোজালিন্ড সাউদার্ন বলেন, লেবার পার্টি আগে টিকটকে যেসব ‘এলোমেলো মিম’ পোস্ট করত, তার পরিবর্তে বার্নহাম এখন ‘সমন্বিত ও সংহত কৌশল’ নিয়ে এগোচ্ছেন। বর্তমানে এক্সে বার্নহামের অনুসারী প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার, টিকটকে ৪ লাখ ৫০ হাজার ও ইনস্টাগ্রামে ৬ লাখ। গত সপ্তাহে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে একদিনেই তিনি ৫০ হাজার অনুসারী যোগ করেছেন।

তবে জনমত জরিপ সংস্থা ইপসোসের যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিষয়ক পরিচালক কিরান পেডলি সতর্ক করে বলেছেন, ‘বার্নহামের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংকটে ধৈর্য ধরে টিকে থাকার সামর্থ্যের ওপর। তিনি ইতিবাচকভাবেই শুরু করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, চলার পথে বাধা এলে তিনি কীভাবে তা সামাল দেবেন।’

এএম