ফায়ার সার্ভিসের উপ-মুখপাত্র ইয়ান্নিস আর্তোপিওস রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইআরটিকে জানান, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় অগ্নিনির্বাপণে আজ ৩০টির বেশি উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হবে। রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে মাউন্ট কিথাইরন এলাকার গ্রামগুলোতে বর্তমানে ৫০০-র বেশি দমকলকর্মী মোতায়েন রয়েছেন।
আর্তোপিওস বলেন, ‘আমরা আগুনকে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির মধ্যে রাখতে চাই।’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে জানান, পুড়ে যাওয়া বিশাল এলাকার বিভিন্ন স্থানে এখনো সুপ্ত আগুন বা ‘হটস্পট’ রয়েছে। বাতাসের সামান্য ঝাপটা পেলেই যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠতে পারে। তাই পুরো এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার এথেন্স ও এর পার্শ্ববর্তী এভিয়া দ্বীপে অগ্নিকাণ্ডের সর্বোচ্চ ঝুঁকি বিদ্যমান ছিল। ন্যাশনাল অবজারভেটরির গবেষণা পরিচালক কস্তাস লাগুভারদোস জানিয়েছেন, আগস্টের ২০-২৫ তারিখ পর্যন্ত গ্রিসে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি থাকে। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
গত সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত দাবানল নেভাতে গিয়ে পাঁচজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার এথেন্সের পশ্চিম উপকণ্ঠে অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত দুটি বেল হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে একজন ডেনিশ পাইলট ও তার গ্রিক সহ-পাইলট নিহত হন। এর আগে গত সপ্তাহে ক্রিট ও পেলোপোনিস দ্বীপে আরও তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়।
আবহাওয়াবিদ থিওডোর জিয়ানারোস বলেন, ‘এটি গত ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেখা অন্যতম ভয়াবহ দাবানল সংকট।’ ন্যাশনাল অবজারভেটরি জানিয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষের দিকের বাতাস ছিল গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। গত শুক্রবার শুরু হওয়া এই দাবানলে এথেন্সের উপকণ্ঠে ১৩ হাজার হেক্টরের বেশি বন ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোর্ট গেরমেনোসহ করিন্থ উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রামগুলোতে অসংখ্য ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈদ্যুতিক কেবলের ত্রুটি থেকে আগুন লাগার অভিযোগে পোর্ট গেরমেনো থেকে স্থানীয় এক মেয়রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিসের সামনে ‘অত্যন্ত কঠিন’ দিন আসছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো গ্রিসও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘনঘন এবং তীব্র দাবানলের শিকার হচ্ছে।





