ফ্রান্সে দাবানল: আশ্রয়হীন ৩ লাখের বেশি মানুষ, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে আড়াই হাজার দমকলকর্মী

ফ্রান্সের দাবানল
ফ্রান্সের দাবানল | ছবি: সংগৃহীত
0

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম বড় দাবানলের কবলে ফ্রান্স। কঠিন সময় সামনে, সতর্কতা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর। দুই দেশে পুড়ে ছাই পৌনে ৩ লাখ একরের বেশি এলাকা, আশ্রয়হীন ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। ফ্রান্সে আড়াই হাজার দমকলকর্মী, দেড় হাজার সেনা ও ১২শ' পুলিশ সদস্য মিলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। উল্টো তীব্র বাতাস আর গরম নতুন করে উসকে দিচ্ছে আগুন।

পেছনে ফেলে আসা ঘরবাড়ি, এক জীবনের সংসার পুড়ছে আগুনে। অসহায় চোখজোড়া বলে দেয়, দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া করার নেই কিছুই।

স্থানীয়রা জানান, পুরো গ্রাম আগুনে ঘেরা। তিন প্রদেশে আলাদাভাবে জ্বলতে থাকা আগুন বাড়তে বাড়তে এক হয়ে গেছে। ১০ কিলোমিটার দূরে যে দাবানল ছিল, সেটিও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ধ্বংস, ভয়, যন্ত্রণার এক অবিশ্বাস্য রূপ দেখছি, বর্ণনা করা অসম্ভব।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম বড় দাবানলের কবলে ফ্রান্স। দক্ষিণপশ্চিম উপকূল থেকে নজিরবিহীন দাবানল পৌঁছে গেছে ঐতিহাসিক বোর্দোঁ শহরের কাছে। রোববার রাতে জুরান্দ অঞ্চলের দক্ষিণের কয়েকটি গ্রাম থেকে সরিয়ে নেয়া হয় ৫৫ হাজার মানুষকে। সবমিলিয়ে ফ্রান্সের দক্ষিণপশ্চিমে সংখ্যাটি সোয়া দুই লাখ।

সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দার উপকূলীয় লা পোর্জে শহরে পুড়ে ছাই দেড়শ'র বেশি ঘরবাড়ি। আগুন নেভানোর চেষ্টায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলা দমকলকর্মীদের বিশ্রাম, খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করতে নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করছেন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়া মানুষরা।

স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, আমরা ৯০ জনের জন্য ভালো খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করলে আসে হয়তো ৩০ জন। কারণ আগুন বাড়তে থাকায় অনেকেই খাওয়ার সময়টাও পান না। তাদের জন্য খাবার পাঠানোর ব্যবস্থাও করছি। তারা অসাধারণ কাজ করছেন।

ফ্রান্সে তীব্র গতিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে হিমশিম খাচ্ছে আড়াই হাজার দমকলকর্মী, দেড় হাজার সেনা ও ১২০০ পুলিশ সদস্য। সহযোগিতা করছে সুইজারল্যান্ডের একটি ফায়ারফাইটার দলও।

অন্যদিকে, স্পেনে দাবানলে এক নারীর মৃত্যুর পর প্রাণহানি না বাড়লেও দাবানল পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চলে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৯০ হাজার মানুষকে। নতুন করে দাবানল শুরু হয়েছে উপকূলীয় ভ্যালেন্সিয়া শহরে। বাতাস আর গরমে বাড়ছে আগুনের তীব্রতা। সামনে কঠিন সময়, সতর্কতা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজ বলেন, সামনে জটিল সময় আসছে। আগুনের গতিপ্রকৃতি, তা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং তা মোকাবিলার প্রচেষ্টার দিক থেকে গত রাতটি খুবই ইতিবাচক ছিল। এখন আমরা দেখব আজ পরিস্থিতির কী পরিবর্তন হয়।

দুই দেশে আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে পৌনে তিন লাখ একরের বেশি এলাকা। এর মধ্যেই ইউরোপের আরেক দেশ ইতালিতেও গারগানো উপকূলে বিশাল রূপ ধারণ করেছে একটি দাবানল। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৪০০ পর্যটককে। পর্তুগাল, গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, জার্মানিসহ চলতি মাসেই দাবানলের ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হয় ইউরোপের বেশি কিছু দেশ।

ইএ