মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতকে এ শতাব্দীর সবচেয়ে দুর্বোধ্য ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বললে ভুল হবে না। যে দ্বন্দ্বের গতি প্রকৃতি নির্দিষ্ট এক বিষয়েও সীমাবদ্ধ নয়। পরিস্থিতির প্রতিটি বাঁকে রয়েছে পরাশক্তিগুলোর গুটির হিসেবি চাল, আচমকা হস্তক্ষেপ। যাকে উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যর্থতার জটিল মিথস্ক্রিয়াও বলা যায়।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সম্প্রতি কাস্পিয়ান সাগরে দুই ইরানী জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় এক নাবিক নিহতের ঘটনার জেরে নতুন অপ্রত্যাশিত একটি রণাঙ্গন হয়ে উঠেছে কাস্পিয়ান সাগর।
এও প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনাটি কৌশলগত সামুদ্রিক করিডোরগুলোতে সংঘাত বাড়িয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা কি না? এ অঞ্চলজুড়ে সামরিক-অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকারী যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন-ই কি এই জটিলতার দায় এড়াতে পারে?
কিয়েভের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পোর্ট ওলিয়া ২ এবং বেগে নামের জাহাজগুলো রাশিয়া-ইরানের মধ্যে সামরিক রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিল। এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালেও কাস্পিয়ানের ওলিয়া বন্দরে রাশিয়াগামী পোর্ট ওলিয়া ৪ নামের জাহাজে হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। দেশটির গোয়েন্দাদের দাবি, জাহাজটি ইরান থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ বহন করছিল।
এছাড়া প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েতের চার বিমানঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে স্যাটেলাইট নজরদারির তথ্য ফাঁস করাতেই যুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান।
ইউক্রেন বহু বছর ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইরান শাহেদ-১৩৬সহ হাজার হাজার কামিকাজে ড্রোন সরবরাহ করে মস্কোকে ইউক্রেনের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে সাহায্য করছে। তাই আত্মরক্ষার স্বার্থে পাল্টা আঘাতের অধিকার আছে কিয়েভের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কিয়েভের এই হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধিকে ইউরেশীয় নৌপথ পর্যন্ত প্রসারিত করছে। আর এই সংকট বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক গভীর হুমকি।
ইরান ইতোমধ্যে ইউক্রেনের এই বেপরোয়া পদক্ষেপের কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে কিয়েভের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ইরানের বেশ কয়েকটি আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত থাকাতে প্রাণঘাতী সংঘাতের ঝুঁকি একেবারে নাকচও করা যায় না।





