ইরানের ওপর মার্কিন হামলা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকেই দেশটির ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প কার্যত স্থবির। গত এক বছর আগে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিরল রোগীদের জন্য কিছু ওষুধ আমদানি সম্ভব হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধে সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ। বিশেষ করে হিমোফিলিয়া রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় 'হিউমেট'-এর মতো ইনজেকশন এখন আর বাসায় নিয়ে দেয়া যায় না।
রোগীদের ফিরে যেতে হচ্ছে পুরনো পদ্ধতিতে। যেখানে শুধু হাসপাতালে গিয়ে বিশেষ ইনজেকশন নিতে হয়। এতে অনেক সময় লেগে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জরুরি মুহূর্তে রোগী চিকিৎসা নিতে পারে না বলে অভিযোগ চিকিৎসক ও ভুক্তভোগীদের।
রোগীরা বলেন, রোগীরা ওষুধ না পেয়ে রক্তক্ষরণ ও দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদি ওষুধ না পাই, সামান্য কাটাও প্রাণঘাতী হতে পারে। কারণ আমাদের রক্ত জমাট বাঁধে না। শেষ পরিণতি মৃত্যুও হতে পারে। ওষুধ না পেলে আমি ঘরেই আটকে থাকি। কাজ, ব্যায়াম করতে পারি না। এমনকি গণ-পরিবহনও ব্যবহার করতে পারি না। পুরো জীবনই থেমে আছে।
শুধু হিমোফিলিয়াই নয়, চলতি বছরের মার্চে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি গবেষণা ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইরানের প্রাচীনতম চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান পাস্তুর ইনস্টিটিউটও।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার এই চক্র যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ইরানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তত বেশি পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। হিমোফিলিয়ার মতো জটিল রোগে সময়মতো ওষুধ না পেলে অক্ষমতা বা মৃত্যু অনিবার্য।





