যুক্তরাজ্যের উপকূলে রুশ যুদ্ধজাহাজের ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়া

রাশিয়ার নিউস্ত্রাশিমি
রাশিয়ার নিউস্ত্রাশিমি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথ থেকে ৪৫ মাইল দক্ষিণে ইংলিশ চ্যানেলে বিরল ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়া চালিয়েছে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ। যেদিন অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন, সেই দিনই ‘নিউস্ত্রাশিমি’ নামের এই যুদ্ধজাহাজ থেকে এই মহড়া চালানো হয়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জাহাজটি হঠাৎ করেই কামান দাগানোর ঘোষণা দেয় এবং এতক্ষণ ধরে অনুসরণ করে আসা একটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। এরপর ব্রিটিশ প্যাট্রল ভেসেল ‘এইচএমএস টাইন’ অবস্থান পরিবর্তন করে সরে গেলে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রায় ৩০ মিনিট ধরে গোলাবর্ষণের মহড়া চালায় রুশ ফ্রিগেটটি।

চলতি ২০২৬ সালের বেশির ভাগ সময়জুড়েই রুশ যুদ্ধজাহাজগুলো ব্রিটিশ জলসীমার আশপাশে চলাচল করছে। গত মাসে আরেকটি রুশ ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’ আইল অব উইটের দক্ষিণে একটি ব্রিটিশ প্লেজার ইয়টে ভ্রমণরত এক দম্পতির মাত্র কয়েকশ মিটারের মধ্যে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে।

অন্য কোনো দেশের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় এত অল্প সময়ের নোটিশে ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়া চালানো একটি বিরল ঘটনা। সাধারণত এই ধরনের মহড়া যথাযথ নোটিশ দিয়ে করা হয়। তবে যদি সঠিকভাবে নিরাপত্তা সতর্কতা দেয়া হয়, তবে এটি বৈধ।

১৩০ মিটার দীর্ঘ ‘নিউস্ত্রাশিমি’ যুদ্ধজাহাজটিতে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতি মিনিটে ৫০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে সক্ষম ১০০ মিমি কামান রয়েছে। এছাড়া এর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গ্যাটলিং রোটারি মেশিনগানও রয়েছে। মহড়ার সময় ঠিক কোন অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

চলতি মাসের শুরুতে ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ব্রিটিশ উপকূলে আসে ‘নিউস্ত্রাশিমি’। এর আগের জাহাজটি টানা তিন মাস ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরে মোতায়েন ছিল। বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক উত্তেজনা তুঙ্গে। গত মাসে রয়্যাল মেরিন সদস্যরা ইংলিশ চ্যানেল থেকে একটি রুশ-সংশ্লিষ্ট তেল ট্যাংকার জব্দ করেছেন। এর ফলে রাশিয়া পাল্টা প্রতিশোধ নিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

রাশিয়া কিছু কিছু তেল ট্যাংকারকে পাহারা দিতেও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করছে। তবে অন্য সময়ে তাদের এই উপস্থিতি মূলত মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি এবং তাদের ওপর নজর রাখতে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীকে ব্যস্ত রাখার কৌশল।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘রয়্যাল নেভির নজরদারিতে থাকা একটি রুশ নৌযান গতকাল প্লাইমাউথের প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সরাসরি অস্ত্র চালনার মহড়া চালিয়েছে। রয়্যাল নেভি পুরো মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং এখনো ওই জাহাজের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

এএম