ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ; মোদি-শাহর পদত্যাগ দাবি

রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলছেন জিতেন্দ্র সিং
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলছেন জিতেন্দ্র সিং | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ালেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র পার্লামেন্টমুখী পদযাত্রার পরদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই বিক্ষোভে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। আজ (মঙ্গলবার, ২১ জুলাই) দুপুরে কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ১০ নম্বর রাজাজি মার্গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন দলটির কর্মী-সমর্থকেরা। এরপর গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বে তারা প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গের দিকে মিছিল নিয়ে যান। বিক্ষোভস্থলে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং প্রায় কয়েক মিনিট ধরে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। উপস্থিত এক ব্যক্তি তাদের এই কথোপকথন রেকর্ড করেন।

গতকাল (সোমবার, ২০ জুলাই) সিজেপির পার্লামেন্ট অভিমুখী মিছিলে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই ছিলেন ছাত্র ও তরুণ। ‘নিট’ (এনইইটি) ও অন্যান্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি। তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং অনেকে রক্তাক্ত হন। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘অশৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণের’ অভিযোগ এনেছে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করেছেন এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এতে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

আজ (মঙ্গলবার, ২১ জুলাই) লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের ওপর হওয়া ‘নৃশংসতার’ জবাবদিহি চাইতেই কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ।’ সিজেপির দাবির চেয়েও একধাপ এগিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।

রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার জবাব চাইতেই আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাড়িতে মিছিল নিয়ে এসেছি। সরকার এর দায় নিতে চায় না, পার্লামেন্টেও বিতর্ক করতে চায় না। ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।’

কংগ্রেসের আচমকা এই বিক্ষোভে অনেকটাই বিব্রত হয়ে পড়ে দিল্লি পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয় এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করা শুরু হয়। বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগ তোলে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কংগ্রেস নেতারা দাবি করেন, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছিল।

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মানিকম টেগোর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে নেই। গতকাল অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পার্লামেন্ট ছেড়ে চলে গেছেন। তাহলে আমরা কার কাছে গিয়ে আমাদের কথা বলবো? আমাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ।’ বিক্ষোভ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে যান।

এএম