যুক্তরাজ্যের ১০ বছরে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী: মসনদে লেবার পার্টি নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

অ্যান্ডি বার্নাম
অ্যান্ডি বার্নাম | ছবি: সংগৃহীত
0

চার বছরের মাথায় পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী পেল যুক্তরাজ্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে 'উত্তরের রাজা' খ্যাত এই নেতা এখন ডাউনিং স্ট্রিটের নতুন অধিকারী।

১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে লিভারপুলের উপশহর ল্যাঙ্কাশায়ারের এইন্ট্রিতে এক ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বাবা ছিলেন বিটি ইঞ্জিনিয়ার ও মা জিপি রিসেপশনিস্ট। আর দুজনেই ছিলেন লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক। তাই তো মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই দলে যোগ দেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিটজউইলিয়াম কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করনে তিনি। পরে 'ট্যাঙ্ক ওয়ার্ল্ড' ও 'প্যাসেঞ্জার ওয়ার্ল্ড ম্যানেজমেন্টর মতো বাণিজ্য পত্রিকায় কাজ করেন বার্নহ্যাম।

অবশ্য বিশ দশকের শুরুতে, রাজনীতিতে প্রথম সুযোগ পান প্রয়াত টেসা জোয়েলের গবেষক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে। এরপর দ্রুতই এগিয়ে যান বার্নহ্যাম। সংস্কৃতি সচিব ক্রিস স্মিথের বিশেষ উপদেষ্টা হওয়ার পর ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বার্নহ্যাম। সেই সময় টনি ব্লেয়ারের অধীনে একজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে গর্ডন ব্রাউনের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বার্নহ্যাম। অবশ্য লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য ২০১০ ও ২০১৫ সালে দুই দফা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও ব্যর্থ হন এই নেতা।

আরও পড়ুন:

২০১৭ সালে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন। সেখানে তিনি পরিবহন, আবাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। তার নেতৃত্বে ম্যানচেস্টারের অর্থনীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, যা সমগ্র ব্রিটেনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ২০২০ সালে কোভিড বিধিনিষেধ নিয়ে সরকারের সাথে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে তিনি 'উত্তরের রাজা' উপাধি পান।

অবশ্য গেলো মাসে মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি সংসদে ফিরে আসেন। লেবার পার্টির ৩৭৯ আইনপ্রণেতা ও ১১টি অধিভুক্ত ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন পান তিনি। গেল ১৭ জুলাই বিশেষ পার্টি কনফারেন্সে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হন বার্নহ্যাম। সেই ধারাবাহিকতায় রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর বার্নহ্যামকে নতুন সরকার গঠনের নির্দেশ দেন রাজা।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই প্রথম ভাষণে ব্রিটেনের রাজনীতিতে চল্লিশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহ্যাম। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে - ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জনগণের জীবনযাত্রার খরচ কমানো।

গেল এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বার্নহ্যাম। আপাতত তাকে মন্দা অর্থনীতি, সংকটাপন্ন জনসেবা ও নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে পার্টির ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা করতে হবে। সমালোচকরা তার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, সমর্থকরা মনে করছেন তিনি রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবেন।

ইএ