৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে যখন মৃত্যুপুরীতে গোটা ভেনেজুয়েলার কারাকাস ও লা গুয়েরাহ শহর তখন দেশটির একাংশ ব্যস্ত লুটপাটে। যে যেভাবে পাড়ছে দোকান, বাড়ি ও শপিংমল থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বিধ্বস্ত শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি না থাকায় এ ধরণের অপরাধমূলক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন তারা।
রয়টার্সে প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, দোকান থেকে খাবারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়িঘর থেকেও যে যেভাবে পারছে ছুটছেন মালামাল নিয়ে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার বৃহস্পতিবারের ৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও চাপা পড়ে আছে বহু মানুষ। তাদের উদ্ধারে চলছে অভিযান। তবে সময় যত গড়াচ্ছে ততই সম্ভাবনা কমে আসছে জীবিত উদ্ধারের।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা বলেন, মা ও ছোট বোনকে খুঁজছি। এই এপার্টমেন্টে ছিলো তারা। আমি বাহিরে ছিলাম। তাদের এখন কী পরিস্থিতি কিছুই বুঝতে পারছি না।
ভূমিকম্পের সময় এক কাপড়ে বের হয়ে আসা হাজারো মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করছেন। নেই খাবার, সুপেয় পানি, পড়নের জামা-কাপড়। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন বেশিরভাগ জায়গায়। তাই আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন তাদের সহায়তায় হাত বাড়ানোর।
ভেনেজুয়েলার বাসিন্দারা বলেন, আমাদের সাহায্য দরকার। ঘরবাড়ি ছেড়ে আমরা রাস্তায় এসে নেমেছি। শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। তাদের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা করতে হবে। রাস্তায় ঘুমিয়েছি। যারা বেঁচে আছি তাদের খাবার দরকার। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি।
ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভূমিকম্প ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন। ত্রাণ বিতরণে জাতিসংঘ তাদের সহায়তা করবে বলে জানান।
ভেনেজুয়েলা সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরইমধ্যে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ভার্জিনিয়া থেকে আসা ২টি দল। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, একটি সামরিক কার্গো বিমানে করে ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।
সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরইমধ্যে উদ্ধারকর্মী, ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে ভেনেজুয়েলায়। এছাড়াও যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, ব্রাজিল, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডও তাদের কর্মী পাঠিয়েছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিতে।





