মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অন্যতম পবিত্র দিন মহররম মাসের ১০ তারিখ, যা আশুরা নামেও পরিচিত। কারবালার হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক ঘটনা আশুরা ও মহররমের ইতিহাসে নব জাগরণ ঘটিয়েছে।
ইরানে মহররম বা আশুরা এখন কেবল ধর্মীয় শোকের মাস নয়। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, আত্মত্যাগের আদর্শ এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে মাথা নত না করে রাজপথে থেকেছে ইরানিরা। কারবালা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে প্রতি রাতেই মিছিল-সমাবেশ করছে তারা। সাধারণ শোক ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে এক সুসংগঠিত প্রতিরোধে।
এই প্রথমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেই দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে আশুরার প্রতিটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার আবেগী কণ্ঠে কারবালা ময়দানের মর্মস্পর্শী ঘটনা শুনে অশ্রু ঝরাতেন উপস্থিত মুসল্লিরা। যেখানে উপস্থিত থাকতেন রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তা, আলেম-ওলামাসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
এবার তিনি সশরীরে না থাকলেও মহররমের প্রতিটি মজলিসে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন বাসিন্দারা। প্রয়াত আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি হাতে শোকের মিছিলে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে তারা আশাবাদী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একবিন্দু ভরসা নেই তাদের।
এদিকে, তেহরানের প্রতি সমর্থন জানানোয় লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে নির্মূলের নামে হত্যা করা হচ্ছে শত শত বেসামরিক মানুষকে। দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
এমন ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়া শহরে শিয়া মুসল্লিরা পালন করছে পবিত্র আশুরা। যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের মাঝেই শোকের বিশাল মিছিল নিয়ে যাচ্ছেন লেবাননের বাসিন্দারা। এর মধ্য দিয়ে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তারা।
শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ১০ মহররম বা আশুরা। প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্যসহ শিয়া সম্প্রদায়ের লাখ লাখ মানুষ এই শোকের দিনটি পালন করে।





