‘যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকতো না’: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সঙ্গে সই করা বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মূল কপি বা খসড়া দেখতে চেয়েছিল ইসরাইল, কিন্তু সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে করা এই চুক্তির নথিপত্র ইসরাইলের সঙ্গে শেয়ার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এবিসি নিউজ গতকাল (মঙ্গলবার, ১৬ জুন) জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এই চুক্তির বিষয়ে মৌখিকভাবে ব্রিফ করা হলেও এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো খসড়া দেয়া হয়নি। গত রোববার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সই হওয়া এই সমঝোতার মাধ্যমে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই কূটনীতির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, তিনি এই চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠাবেন এবং এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি সম্ভবত একটি সংবাদ সম্মেলন করে এটি শব্দে শব্দে পড়ে শোনাব, যাতে সংবাদমাধ্যম সঠিক তথ্যটি প্রকাশ করতে পারে।’ আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক সই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে ইসরাইলকে চুক্তির পাঠ্য না দেয়ায় ওই অঞ্চলে এমন একটি ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, এই সমঝোতা মূলত ইরানের পক্ষেই গেছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি। ইসরাইলি সংবাদপত্র ইয়েদিওত আহরোনোত ইতিমধ্যে একে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কট্টরপন্থি ইসরাইলি রাজনীতিক ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই চুক্তি ইরানকে নিশ্চিতভাবে একটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করবে।’ তবে তিনি এও যোগ করেন যে, মার্কিনিদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে তার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের যেকোনো ধরনের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলনে কাতারের আমিরের পাশে বসে তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকত, তবে ইসরাইলের অস্তিত্বই থাকত না। ইসরাইল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত।’

এএম