ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স ও ব্রিটেন

ইউক্রেন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রেসিডেন্ট | ছবি: সংগৃহীত
0

যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার প্যারিসে কোয়ালিশন অব দ্য উইলিংয়ের বৈঠকে একটি ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর হয়। এদিকে, ইউরোপিয়ান নেতাদের আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকভ জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে অগ্রগতি আসলেও ভূমি ভাগাভাগির মতো জটিল ইস্যুগুলো সমাধানে আরও আলোচনা প্রয়োজন। তবে চলমান আলোচনার মাঝেই, মঙ্গলবার একে অপরের ভূখণ্ডে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত প্রচেষ্টার মাঝেও পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো ও কিয়েভ। মঙ্গলবার রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউক্রেনের ৩ শতাধিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিতের দাবি জানিয়েছে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত ২ টি হিমার্স রকেটও ধ্বংসের কথা জানিয়েছে মস্কো। বিপরীতে কিয়েভের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানান, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কোস্ট্রেমা ওব্লাস্টে একটি রুশ সামরিক অস্ত্রাগারে সফল হামলা চালিয়েছে।

দুই দেশের ক্রমাগত হামলা-পালটা হামলার মাঝেই মঙ্গলবার প্যারিসে বৈঠকে বসে কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্রদের জোট কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং। আলোচনায় উঠে আসে যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা ইস্যুর প্রসঙ্গ। সভায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে কিয়েভের সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানায় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে জেলেনস্কির উপস্থিতিতে একটি ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

আরও পড়ুন:

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা চাই না এমন কোনো শান্তি চুক্তি হোক , যার ফলে কিয়েভের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এটা মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও চায়না। ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র। তারা ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত। এটা কিয়েভের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।’

যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ট কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো কিয়েভের টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা। আমরা ৩টি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি। শুরুতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের সুরক্ষায় শান্তি বাহিনী পাঠাবো। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে রুশ আক্রমণ মোকাবিলায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’

ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জেলেনস্কি নিজেও। জানান, ইউক্রেনের জল, আকাশ ও স্থল নিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত আছে ।

মঙ্গলবার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন স্টিভ উইটকভ ও জ্যারেড কুশনার। যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে রাশিয়া ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি এসেছে বলে জানান তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ বলেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যুতে যথেষ্ট অগ্রগতি এসেছে। তবে ভূমি ভাগাভাগির মতো কিছু জটিল বিষয় আছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বিষয়টি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি আশাবাদী এই ইস্যুতে বিবাদমান পক্ষগুলো আপসে সম্মত হবে এবং আমরা সমাধানে পৌঁছাবো।’

মঙ্গলবারের আলোচনায় জার্মানি, পোল্যান্ড, ইতালিসহ ইউরোপের প্রায় ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। তবে ফ্রান্স-ব্রিটেন ছাড়া অন্য কোনো দেশ ইউক্রেনে যুদ্ধ পরবর্তী সৈন্য পাঠাতে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ইএ