আজ ম্যানহাটনের আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে

আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরোকে
আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরোকে | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রে মাদক-সন্ত্রাস মামলায় আজই ম্যানহাটনের আদালতে তোলা হচ্ছে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে। এদিকে দেশ পুনর্গঠনে সহায়তা না করলে আবারও ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। চাপের মুখে সুর নরম করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপে বসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন সদ্য দায়িত্ব নেয়া ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট। যদিও ট্রাম্পের হুংকার অগ্রাহ্য করে দেশের সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন মাদুরো পুত্র গুয়েরা। এদিকে, শনিবার ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ৩২ কিউবান নিহত হয়েছে বলে দাবি হাভানার।

হাতকড়া পড়িয়ে সশস্ত্র পাহারায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে। যাদেরকে সরাসরি ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে এনেছে মার্কিন এলিট ডেল্টা ফোর্স। এই দৃশ্যই বলে দেয়, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইন, বিশ্ব সংস্থা- কারোই ধার ধারেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক চোরাচালানসংক্রান্ত অভিযোগে স্থানীয় সময় সোমবার বেলা ১২টায় আর বাংলাদেশ সময় রাত এগারোটায় ম্যানহাটনের আদালতে তোলা হতে পারে এই দম্পতিকে।

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণের পর গভীর অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন ভেনেজুয়েলানরা। মেট্রো পরিষেবা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সচলে বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বাসস্টপে এসে মোবাইল চার্জ দিচ্ছেন অনেকে। তবে, শনিবারের পর রোববারও ভেনেজুয়েলার রাস্তায় মাদুরো সমর্থকদের ঢল দেখা গেছে। প্রেসিডেন্টের নিঃশর্ত মুক্তির দাবির পাশাপাশি তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কোনো সরকারকে মানবে না কারাকাসবাসী।

কারাকাসবাসী জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মদদপুষ্ট সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে চাইলে আমরা তা মেনে নেবো না। আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের বাসভবনের কাছে যুদ্ধবিমান যায় কীভাবে? বিমানগুলো দেখার সঙ্গে সঙ্গে কেন বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হলো না?

আরও পড়ুন:

তবে, ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কিংবা বিশ্বনেতাদের আক্রোশের তোয়াক্কা করছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের নজর শুধু কীভাবে ভেনেজুয়েলার খনিজ তেলের সাম্রাজ্য মার্কিন কোম্পানির সহায়তায় উদ্ধার করবেন- সেই দিকে। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, দেশ পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তী প্রশাসন সহায়তা না করলে ভেনেজুয়েলায় আবারও সামরিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা ভেনেজুয়েলার খেয়াল রাখব। যারা দেশে আছেন কিংবা যাদের দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে তাদের প্রত্যেকের খেয়াল রাখা হবে। আপনারা হয়তো জানেন, আমরা দ্বিতীয় অভিযানের জন্য প্রস্তুত। যেকোনো সময় অভিযান চালাতে পারি। তবে, মনে হয় না এর প্রয়োজন হবে।

যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার দাবি করছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কোনো সংঘাতে নেই যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান ও যুদ্ধ সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চলছে তীব্র সমালোচনা। মাদুরোকে তুলে আনার সিদ্ধান্তকে হঠকারিতা হিসেবেই দেখছেন সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক সুমার।

ওয়াশিংটনের আগ্রাসী অবস্থানের জেরে কিছুটা সুর নরম করেছেন সদ্য দায়িত্ব নেয়া ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস। মন্তব্য করেছেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ যুদ্ধ নয়, শান্তি এবং সংলাপ প্রত্যাশা করে। আর বিরোধী দলের নেতা এডমুন্ডো গঞ্জালেস বলেছেন, অন্যায়ভাবে ভেনেজুয়েলার একজন সাধারণ নাগরিককেও যদি আটকে রাখা হয়, দেশে গণতন্ত্রের রূপান্তর সম্ভব না।

পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে দেশের জনগণকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, মাদুরো পুত্র নিকোলা মাদুরো গুয়েরা। ঘনিষ্ঠ কারোর বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়েছেন মাদুরো, এর জবাবে গুয়েরা মন্তব্য করেছেন, ইতিহাস বলে দেবে কারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।

এদিকে, মাদুরোকে অপহরণের সময় মার্কিন সেনা অভিযানে বেশ কয়েকজন কিউবান নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে হাভানা। আর ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ডেল্টা এলিট ফোর্সের অভিযানে মাদুরোর সিকিউরিটি টিমের বেশিরভাগ সদস্যের প্রাণ গেছে।

ইএ