শহরের কৃত্রিম আলো ও ধোঁয়াশা থেকে দূরে কোনো খোলা ও অন্ধকার স্থানে দাঁড়ালে খালি চোখেই ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা বা ‘তারা খসা’ দেখা যেতে পারে। উল্কাবৃষ্টি দেখার সেরা সময়, উৎস এবং পর্যবেক্ষণ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো:
আরও পড়ুন:
কখন ও কোথায় সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে? (Best Time and Viewing Locations for Meteor Shower)
উত্তর গোলার্ধের (Northern Hemisphere) দেশগুলো থেকে পার্সিড উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণের সুযোগ সবচেয়ে বেশি।
- সেরা সময়: ১২ আগস্ট রাত ১২টার পর থেকে শুরু করে ১৩ আগস্ট ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত সময়টি উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- পর্যবেক্ষণ স্থান: কোনো নির্দিষ্ট নক্ষত্রের দিকে এককভাবে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। যদিও মনে হবে পারসিয়াস নক্ষত্রমণ্ডল (Perseus Constellation) থেকে উল্কাগুলো ছুটে আসছে, কিন্তু বাস্তবে পুরো আকাশজুড়েই আলোর রেখা ছড়িয়ে পড়বে। তাই যতদূর সম্ভব খোলা আকাশ একসাথে চোখের সীমানায় রাখাই শ্রেয়।
পার্সিড উল্কাবৃষ্টির উৎস কী? (Comet 109P/Swift-Tuttle and Meteor Origins)
এই মহাজাগতিক আলোর খেলার পেছনে রয়েছে ধূমকেতু ১০৯পি/সুইফট-টাটল (Comet 109P/Swift-Tuttle)।
- সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় এই ধূমকেতুটি মহাকাশে প্রচুর ধূলিকণা ও ছোট পাথুরে কণার লেজ বা ধারা রেখে যায়।
- প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে পৃথিবী যখন ধূমকেতুটির ফেলে যাওয়া সেই ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে (Earth's Atmosphere) প্রবেশ করে।
- বায়ুমণ্ডলের সাথে তীব্র ঘর্ষণে কণাগুলো উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে, যা রাতের আকাশে আমাদের চোখে ‘তারা খসা’ বা উল্কাবৃষ্টি (Meteor Shower) হিসেবে দৃশ্যমান হয়।
আরও পড়ুন:
যেভাবে উপভোগ করবেন এই মহাজাগতিক দৃশ্য (How to Watch Meteor Shower Safely)
উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য কোনো দামি টেলিস্কোপ (Telescope) বা দূরবীনের (Binoculars) একেবারেই প্রয়োজন নেই; খালি চোখেই (Naked Eye) এই দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব।
- আলোক দূষণ মুক্ত স্থান: শহরের কৃত্রিম আলো ও বহুতল ভবনের বাধা থেকে দূরে কোনো উঁচু ছাদ, মাঠ বা নিরাপদ অন্ধকার স্থানে অবস্থান নিন।
- আকাশের অবস্থা: আকাশ মেঘমুক্ত থাকা উল্কাবৃষ্টি দেখার প্রধান শর্ত।
- ধৈর্য ধরা: অন্ধকার চোখে মানিয়ে নিতে অন্তত ১৫-২০ মিনিট সময় দিন। খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে দূর মহাকাশের মনোমুগ্ধকর আলোর ঝরনা।
আজ রাতে আকাশে উল্কাবৃষ্টির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য: জেনে নিন সেরা সময় ও বাংলাদেশ থেকে দেখার উপায়
একনজরে পার্সিড উল্কাবৃষ্টির সময়সূচি, উৎস, বাংলাদেশ থেকে স্পষ্ট দেখার কৌশল ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলী
পার্সিড উল্কাবৃষ্টি
১২ আগস্ট রাত ১২টার পর থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত সবচেয়ে সক্রিয় থাকবে (ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি উল্কা)।
অমাবস্যার কারণে চাঁদের আলো না থাকায় উল্কার প্রদীপ্ত ঝলকানি স্পষ্ট দেখা যাবে।
খালি চোখে পর্যবেক্ষণযোগ্য
বাংলাদেশ থেকে দেখার কৌশল
রাত ১২টার পর উঁচু ছাদ, গ্রাম বা অন্ধকার খোলা জায়গা থেকে উত্তর-পূর্ব আকাশে দৃষ্টি রাখতে হবে।
মেঘমুক্ত আকাশ এবং কৃত্রিম আলো বা আলোক দূষণমুক্ত অন্ধকার পরিবেশ প্রয়োজন।
সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি
উল্কাবৃষ্টির বিজ্ঞান ও উৎস
ধূমকেতু '১০৯পি/সুইফট-টাটল'-এর ফেলে যাওয়া ধূলিকণা বায়ুমণ্ডলে তীব্র গতিতে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে।
পারসিয়াস নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে উল্কাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্বাভাবিক মহাজাগতিক ঘটনা
জরুরি নির্দেশনা
টেলিস্কোপ বা দূরবীনের দরকার নেই; বিস্তৃত আকাশ খোলা রেখে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।
শহরের আলোর ঝলকানি এড়িয়ে অন্ধকার জায়গা বেছে নিন।
ধৈর্য ধরা আবশ্যক
বিষয় (Topic)
সময়সূচি ও সম্ভাবনা (Timing & Rate)
আকাশি পরিবেশ (Sky Condition)
পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি (Viewing Method)




