নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৩ বছরের এক তরুণ পড়তে গিয়েছিলেন দেশের বাইরে। অনার্স শেষ বর্ষে সেখানে রুটিন চেক আপে জানতে পারেন এইচআইভি পজিটিভ। দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়ায় ফিকে হয়ে যায় বিদেশে ডিগ্রি নেওয়ার স্বপ্ন। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সেবায় সন্তুষ্ট তরুণ জানেন না কেন তিনি এইডস-এ আক্রান্ত হলেন।
আক্রান্ত সে তরুন জানান, 'মালেয়শিয়াতে প্রতি বছর মেডিকেল চেক করা হয়, প্রথম তিনবার সব ঠিকঠাক আসলেও চতুর্থবারে এইডস ধরা পরে।'
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, দেশে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ এইচআইভি ভাইরাস বহন করছে। গত ৩৪ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশে এইডসে আক্রান্ত ১১ হাজারের বেশি এবং মারা গেছে ২ হাজার ৮৬ জন।
আশঙ্কার খবর হলো, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ১ বছরে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ জন এবং সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ২৬৬ জনের। সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যালোচনায় বাংলাদেশে ঝুঁকিতে নেই বলে জানিয়েছেন সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফুল বাশার। আগের চেয়ে বেশি পরীক্ষা হওয়ায় শনাক্তও বেড়েছে বলেও দাবি তার।
২০২০ সালে দেশে এইচআইভি পজিটিভ এর চিত্র।
২০২৩ সালে আক্রান্তের সর্বোচ্চ ঢাকা ও সর্বনিম্ন রংপুর বিভাগে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা বিভাগও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একাধিক ব্যক্তি একই সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এইডস ছড়ানোর হার কমলেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সমকামিতা।
সংক্রামক ব্যধি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আরিফুল বাশার বলেন, 'সমকামিতা থেকে বর্তমানে বেশি ছড়াচ্ছে, পেশাদার যৌন কর্মীদের থেকেও ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও যারা একসাথে গ্রুপ করে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে আইভি ড্রাগ নেয় তাদের মধ্যেই বেশি হচ্ছে। এইডস ধরা পরার সাথেই যদি চিকিৎসা শুরু করা হয় তাহলে সে স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করতে পারবে।'
দেশের অনেক জেলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও থেরাপি নেবার সুযোগ থাকলেও বেডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবার সুযোগ থাকা একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল মহাখালির সংক্রামক ব্যাধি। অথচ এখানেও রোগীদের জন্য নেই সার্জারি বা সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সুবিধা। তবে সবজায়গায় সরকার বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছে।
সমস্যা সমাধানে বিদেশ ফেরা নাগরিক ছাড়াও সন্দেহভাজনদের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করে ব্যাপকভাবে স্ক্রিনিং এর সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

