সম্প্রতি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি আনতে বিশেষ প্রদেয় প্রিমিয়াম ও মুনাফাসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে সরকারি প্রণোদনাও ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো ছাদে সোলার বসালেই কি বিদ্যুৎ বিল শূন্য হয়ে যাবে নাকি লোডশেডিংয়ের ব্যাকআপ নিশ্চিত হবে?
আরও পড়ুন:
লোডশেডিং থেকে বাঁচতে সোলার কিনবেন? প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও ইনস্টলেশনের পুরো খরচের হিসাব জানুন
সোলার প্যানেল বসালে কী কী সুবিধা মিলবে? (Benefits of Rooftop Solar System)
সূর্যের আলো ব্যবহার করে উৎপন্ন সৌরবিদ্যুৎ সরাসরি দিনের বেলা বাড়ির ফ্যান, লাইট, এসি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি চালাতে সাহায্য করে:
- বিদ্যুৎ বিল কমানো: দিনের বেলায় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে সোলারের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমে আসে (How to Reduce Electricity Bill using Solar BD)।
- অন-গ্রিড ও নেট মিটারিং সুবিধা: অন-গ্রিড সোলার সিস্টেম (On-Grid Solar System with Net Metering BD) সরাসরি সরকারি পাওয়ার লাইনের সাথে যুক্ত থাকে। স্রেডা-র (SREDA) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৩৬৫.৬৩২ মেগাওয়াট-পিক (MWp) সক্ষমতার ৫,০৬৭টির বেশি নেট-মিটার্ড সিস্টেম সচল রয়েছে। এই ব্যবস্থায় দিনে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাঠিয়ে বিদ্যুৎ বিলে ক্রেডিট বা অর্থ সামঞ্জস্য করা যায়।
আরও পড়ুন:
অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড ও হাইব্রিড সোলারের পার্থক্য (On-Grid vs Off-Grid vs Hybrid Solar System)
সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের আগে তিনটি প্রধান ক্যাটাগরি ও এদের পার্থক্য জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি:
- অফ-গ্রিড বা ব্যাটারি সিস্টেম (Off-Grid Solar System Price BD): প্যানেলের সাথে ব্যাটারি যুক্ত থাকে। দিনের বেলা ব্যাটারি চার্জ হয়ে থাকে এবং রাতে বা বিদ্যুৎ না থাকলে সম্পূর্ণ ২৪ ঘণ্টা ব্যাকআপ প্রদান করে।
- অন-গ্রিড সিস্টেম (On-Grid Rooftop Solar): এতে কোনো ব্যাটারি থাকে না। দিনের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজের কাজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে চলে যায়। রাতে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ আনা হয়। ব্যাটারি না থাকায় এই সিস্টেমের প্রাথমিক খরচ বেশ কম।
- হাইব্রিড সিস্টেম (Hybrid Solar System for Home BD): এটি অন-গ্রিড এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ উভয়ের একটি চমৎকার সমন্বয়। লোডশেডিংয়ের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার পাশাপাশি নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করার সুবিধাও দেয়।
আরও পড়ুন:
লোডশেডিংয়ের সময় কি অন-গ্রিড সোলার চলবে? (Does Solar Work During Load Shedding?)
সাধারণ অন-গ্রিড সোলার ইনভার্টার লোডশেডিংয়ের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে (Anti-Islanding Protection) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় (Solar Panel Working Rules During Power Cut)। তাই লোডশেডিং চলাকালে ফ্যান, লাইট বা রাউটার চালু রাখতে চাইলে অন-গ্রিড সিস্টেমের সাথে লিথিয়াম বা জেল ব্যাটারি যুক্ত করে হাইব্রিড ইনভার্টার ইনস্টল করতে হবে। তবে এতে সোলার সিস্টেমের প্রাথমিক ইনস্টলেশন খরচ বেড়ে যায়।
সোলার কি সাধারণ বিদ্যুৎ বিলের চেয়ে সস্তা? (Solar System Price vs Electricity Bill Savings)
প্রাথমিকভাবে প্যানেল, ইনভার্টার, তার, মিটার ও ব্যাটারির কারণে শুরুতেই একটি বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় (Solar Panel Installation Cost in Bangladesh)। তবে সোলার প্যানেলের গড় আয়ু ২৫ বছর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদিত বিদ্যুতের হিসাবে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী। আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (IRENA) তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে সোলারের বৈশ্বিক গড় উৎপাদন ব্যয় প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় মাত্র ৪.৩ মার্কিন সেন্টে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বে সৌরবিদ্যুতের বিপ্লব (Global & Bangladesh Solar Energy Trends)
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০% সৌর বা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে:
- বৈশ্বিক পরিধি: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৮%-এর বেশি এসেছে সৌরশক্তি থেকে।
- চীন ও ভারতের অগ্রগতি: একক বছরে চীন প্রায় ৩৭০ গিগাওয়াট এবং ভারত প্রায় ৫০ গিগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত করে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
আপনার জন্য কোন সোলার সিস্টেমটি উপযোগী? (Which Solar System is Best For You?)
- বিদ্যুৎ বিল কমাতে চাইলে: যাদের ছাদে পর্যাপ্ত রোদ পড়ে এবং দিনে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, তাদের জন্য অন-গ্রিড সোলার (On-Grid) সবচেয়ে লাভজনক।
- লোডশেডিং ব্যাকআপ চাইলে: যাদের প্রধান সমস্যা ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, তাদের জন্য ব্যাটারিসহ হাইব্রিড সোলার (Hybrid System) সবচেয়ে কার্যকারী বিকল্প।
আরও পড়ুন:


