প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বড় সুখবর, কাটলো জটিলতা

প্রাথমিকের শিক্ষক
প্রাথমিকের শিক্ষক | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘদিনের আইনি বাধা কাটিয়ে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারেরও বেশি শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এই পদোন্নতি দেওয়া হবে।

মামলা নিষ্পত্তির পর বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকদের ডিজিটাল গ্রেডেশন তালিকা (Gradation List) তৈরির কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তালিকা সরকারি কর্ম কমিশনে (PSC) পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:

কেন আটকে ছিল পদোন্নতি?

২০১৩ সালে ২৬ হাজারেরও বেশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এরপর জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা, চাকরিকাল ও পদোন্নতির বিধিমালা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হলে পদোন্নতি বন্ধ হয়ে যায়।

অবশেষে চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করায় হাইকোর্টের আদেশের আইনি জটিলতা নিরসন হয় এবং সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার চূড়ান্ত পথ উন্মুক্ত হয়।

পদোন্নতি প্রক্রিয়ার ধাপ ও সময়সীমা (Promotion Process Steps)

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ৩ মাসের মধ্যে পদোন্নতির দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিচের ধাপগুলোতে সম্পন্ন হবে:

  • ১. অনলাইন গ্রেডেশন তালিকা তৈরি: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সহকারী শিক্ষকদের তথ্য যাচাই করে মাঠ পর্যায়ে গ্রেডেশন তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
  • ২. অভিযোগ নিষ্পত্তির ৩০ দিন: তালিকা প্রকাশের পর কোনো শিক্ষকের আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য ৩০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হবে।
  • ৩. মন্ত্রণালয় ও পিএসসির অনুমোদন: অভিযোগ পর্যবেক্ষণ শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পিএসসি (PSC)-তে পাঠানো হবে। পিএসসির সুপারিশ মিললেই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

আরও পড়ুন:

প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির নিয়ম ও যোগ্যতা (Rules & Eligibility)

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী:

  • পদোন্নতির কোটা: মোট শূন্য পদের ৮০% পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০% সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
  • অভিজ্ঞতা: সহকারী শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নির্দেশিকা

একনজরে পদ সংখ্যা, আইনি জটিলতা নিরসন, পদোন্নতির শর্তাবলি ও ধাপসমূহ

বিষয় / খাত (Category) পদোন্নতি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য (Details)

মোট পদোন্নতিযোগ্য শূন্যপদ

৩২,০০০+ (৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ)

আইনি জটিলতা নিরসন

জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর (২ জুলাই)

বর্তমান কাজের অগ্রগতি

অনলাইনে মাঠ পর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন (Seniority) তালিকা চূড়ান্তকরণ

অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা

গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশের পর আপত্তি/অভিযোগ জানানোর জন্য ৩০ কর্মদিবস

পদোন্নতির কোটা ও শর্তাবলি

৮০% পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা

চূড়ান্ত অনুমোদন ও সংস্থা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পিএসসিতে (PSC) সুপারিশ পাঠানো হবে

লক্ষ্যমাত্রা / সময়কাল

আগামী ৩ মাসের মধ্যে পদোন্নতির দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি খবর ২০২৬ (Primary Teacher Promotion News 2026), ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি (32 Thousand Headmaster Promotion BD), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গ্রেডেশন তালিকা (DPE Gradation List Check Online), Primary Headmaster Promotion Rules (প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি বিধিমালা), Primary Teacher PSC Approval (প্রাথমিক শিক্ষক পিএসসি অনুমোদন), সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শূন্য পদ (Primary School Vacant Headmaster Posts), Assistant Teacher to Headmaster Promotion (সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি), DPE Online Gradation List (ডিপিই অনলাইন গ্রেডেশন লিস্ট), Primary Headmaster Promotion Seniority List (প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক জ্যেষ্ঠতা তালিকা), Primary Teacher Promotion Legal Dispute Solved (প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি মামলা নিষ্পত্তি), Primary School Head Teacher Recruitment Rules (প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা), Primary Assistant Teacher 12 Years Experience (সহকারী শিক্ষক ১২ বছরের অভিজ্ঞতা), Primary Gazette and Promotion News BD (প্রাথমিক প্রজ্ঞাপন ও পদোন্নতি খবর)

এসআর