জবিতে সংঘর্ষের জেরে ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া | ছবি: এখন টিভি
0

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের সংঘর্ষের জেরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জকসু নেতারা।

আজ (মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রথম দফার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলছিল।

জকসু সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নির্মাণ শুরু এবং চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের দাবিতে জকসুর প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় প্রবেশমুখে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

জকসুর অভিযোগ, একপর্যায়ে তাদের হাত থেকে প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়। এরপর ধাক্কাধাক্কি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকেও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়তে দেখা যায়।

জকসু নেতাদের দাবি, সংঘর্ষে জকসু জিএস ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ ফারুক, ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি এবং ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়াসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের দাবি, আব্দুল্লাহ ফারুকের পা ভেঙে গেছে।

জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের মিলনায়তনে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ঘটনাটিকে ‘ন্যক্কারজনক হামলা’ উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং জকসু প্রতিনিধিদের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এজিএস মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। প্রথমে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় মিছিল নিয়ে আবারও তাদের ওপর হামলা করা হয়।

ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া দাবি করেন, হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাকেও মুখ, নাক, হাত ও পায়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর জকসুর প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে মিলনায়তনের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

ইএ