প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ১৩৫৫৯ নিয়োগের আবেদন শুরু ৩ ফেব্রুয়ারি

এনটিআরসিএ
এনটিআরসিএ | ছবি: সংগৃহীত
0

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগের অনলাইন আবেদন শুরু হবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। আবেদন চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি) এসব তথ্য জানান।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি শুক্রবার প্রকাশিত হবে।’

২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন ও ২০১৫ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের প্রার্থী নির্বাচন ও নিয়োগ সুপারিশ করছে। এত দিন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহপ্রধান (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগ দেওয়া হতো প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে।

এনটিআরসিএ থেকে জানা যায়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের প্রধানের ১০ হাজার ২৭৮টি শূন্য পদ আছে। এগুলোর মধ্যে স্নাতক (পাস) কলেজের অধ্যক্ষের ৫৮৪টি ও উপাধ্যক্ষের ৬২৭টি, উচ্চমাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষের ৭৬৮টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৩ হাজার ৯২৩টি ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৩ হাজার ৮৭২টি) এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৫০৪টি শূন্য পদ অন্তর্ভুক্ত আছে।

আরও পড়ুন:

এছাড়া এই নিয়োগে এমপিওভুক্ত কামিল, ফাজিল ও আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদ এবং দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্য পদ রয়েছে ৩ হাজার ১৩১টি। আর কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজের অধ্যক্ষের ১১০টি ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সুপারের ৪০টি শূন্য পদে নিয়োগে প্রক্রিয়া চালানো হবে।

এনটিআরসিএ জানিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন হবে। এর মধ্যে এমসিকিউ লিখিত পরীক্ষায় ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ওপর ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর থাকবে। লিখিত পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টার, যেখানে ৮০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে পাসের জন্য কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা, গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা থেকে প্রশ্ন থাকবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান থেকেও প্রশ্ন করা হবে।

গত মঙ্গলবার জারি করা এক পরিপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগের ক্ষমতা দেয় এনটিআরসিএকে।

আরও বলা হয়, সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি পরীক্ষা কমিটি গঠন করবে। প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেবে এনটিআরসিএ। এর বিষয়বস্তুও এনটিআরসিএ নির্ধারণ করবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর হবে ৪০ শতাংশ। পদভিত্তিক শূন্য পদের তিন গুণ প্রার্থীর সমন্বয়ে লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের উত্তীর্ণ করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও এনটিআরসিএর প্রতিনিধির সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করে নেয়া হবে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা। এ পরীক্ষারও পাস নম্বর হবে ৪০ শতাংশ। মৌখিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে থেকে লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে পদভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হবে।

নিয়োগ সুপারিশ যেভাবে

এরপর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে নির্ধারিত শূন্য পদের বিপরীতে এনটিআরসিএ অনলাইনে পছন্দক্রমের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। একজন প্রার্থী পাঁচটি শূন্য পদের বিপরীতে পছন্দ দিতে পারবেন। কোনো প্রার্থী এর বাইরের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে ইচ্ছুক হলে অনলাইন আবেদনে সে সুযোগও পাবেন। এরপর এনটিআরসিএ প্রার্থীর পছন্দ ও মেধার ভিত্তিতে শূন্য পদের বিপরীতে একজন প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশের জন্য নির্বাচন করবে। তবে কোনো প্রার্থী ফৌজদারি মামলায় আদালত থেকে দণ্ডিত হলে বা বিভাগীয় মামলায় দণ্ডিত হলে আবেদনের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।

এনএইচ