দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। আমদানি করা এই জ্বালানি তেলের ৯০ শতাংশ পরিবহন করা হয় নৌপথে। তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির ১৮০ টি অয়েল ট্যাংকারের মাধ্যমে ৫০টি ডিপোতে তেল সরবরাহ করতে বছরে বিপিসির ব্যয় হয় প্রায় চারশ কোটি টাকা।
শুধু তাই নয় অয়েল ট্যাংকার থেকে জ্বালানি তেল নিঃসরণ হয়ে দূষিত হয় নদী ও জল। তাই পরিবেশবান্ধব উপায়ে সাশ্রয়ী ব্যয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য ২০১৮ সালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
২০২০ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও করোনাসহ নানা জটিলতায় কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। এরপর নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা পার করে অবশেষে শেষ হলো বহু কাঙ্ক্ষিত এই প্রকল্পের কাজ।
ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ফতুল্লা পর্যন্ত ৭টি স্টেশনসহ ২৪১.২৮ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন এবং গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত দুটি স্টেশনসহ ৮.২৯ কিলোমিটার পাইপলাইনের কাজ।
পাইপলাইনের পাশাপাশি তিনটি তেল কোম্পানিতে স্থাপিত হয়েছে ৯০ হাজার টন ধারণক্ষমতার তিনটি স্টোরেজ ট্যাংক। পদ্মা অয়েলের মূল ডেসপাস টার্মিনাল থেকে আড়াইশও কিলোমিটারের পাইপলাইনে ঢাকা পাঠানো হবে জ্বালানি তেল। প্রাথমিকভাবে বছরে পাঠানো হবে ১৭ লাখ মে. টন ডিজেল।
কমিশনিংয়ের আগে পাইপলাইনে ভরা হচ্ছে তিন কোটি ১৭ লাখ লিটার তেল। ইতিমধ্যে ৪৫ কিলোমিটার পাইপলাইনে ৫০ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
পদ্মা অয়েলের প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল হক বলেন, 'প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিকটন ক্যাপাসিটির ট্যাংক আমার এই স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত আছে। এই তেলগুলো সরাসরি এসপিএম থেকে আমাদের এই ট্যাংকগুলোতে আসতে পারে। আমরা এখান থেকে পাম্পিং করে ঢাকায় পাঠাই।'
চারদিন লাগবে পুরো পাইপলাইনে তেল ভরতে। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে যন্ত্রপাতি টেস্টিং ও ট্রায়াল শেষে মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপোগুলোতে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।
পদ্মা অয়েল কোম্পানি ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান বলেন, 'ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপ চালু হয়েছে এবং তার মাধ্যমে আমরা প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিকটন তেল ভারত থেকে পাম্পিং হচ্ছে পার্বতীপুর ডিপোতে।'
জ্বালানি তেল পরিবহনে আগে যে ব্যাপক আয়োজন লাগতো, সেটা আর দরকার হবে না। পথে বন্ধ হবে জ্বালানি তেল চুরি ও অপচয়। কমবে পরিবেশ দূষণ।
পদ্মা অয়েলের প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল হক বলেন, 'পরিবেশবান্ধব উপায়ে এবং ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে আমাদের এই তেল পরিবহন করা আমাদের মেইন উদ্দেশ্য। এবং এই তেল পরিবহন করার ফলে আমাদের কিন্তু রিভার পলিউশনে এটার একটা ইমপ্যাক্ট আছে। সেগুলো আমাদের অনেকটাই কমে যাবে।'
বর্তমানে নদীপথে অয়েল ট্যাংকারের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে সময় লাগে ২৪ ঘণ্টা। পাইপলাইনে সময় লাগবে মাত্র চার ঘণ্টা পরবর্তীতে ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, বাঘাবাড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।
প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও সময় ও ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার সাতশ' কোটিতে।