লাভজনক ও তেলের ভালো চাহিদা থাকায় সিলেট বিভাগ জুড়ে বেড়েছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। গত বছর তিনেক আগে যেখানে সিলেট অঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের চাষ ছিল অচেনা সেখানে বর্তমানে বিভাগ জুড়ে এই ফুলের চাষ হচ্ছে ৭৭২ হেক্টর জমিতে।
সিলেট কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার রাধানগর গ্রাম। এখানকার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান। এতদিন তার সমন্বিত খামারে ধান, সবজি, মাছ চাষ করলেও নতুন করে এবার চার হেক্টর জমিতে ফলিয়েছেন সূর্যমুখী ফুল। তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতায় অনাবাদি জমিতে চাষ করেছেন এই ফুল।
কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান বলেন, 'অন্যান্য জায়গায় যে হতো আমার দেখে খুব ভালো লাগতো। আমার খুব আগ্রহ ছিল এটা করার। আমি আসলে সুযোগ সুবিধা পাইতেছিলাম না, জায়গা-জমির সংকট ছিল। এর মধ্যে এই জমি পরিত্যক্ত ছিল, কৃষি অফিস থেকে পানির সোর্স দেয়ার পর এগুলো করেছি।'
মনিরুজ্জামানের মতো দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক এখন সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন। তারা বলছেন, উৎপাদনের খরচ কম আর সহজেই তেল প্রক্রিয়াজাত করণের কারণে দিন দিন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন তারা।
কৃষকদের মধ্যে থেকে একজন বলেন, 'এটা চাষাবাদ করার আমি লাভবান হইছি। এবার আরও একটু বেশি জায়গায় করছি। এবার ফুলও সুন্দর হইছে।'
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, সূর্যমুখী চাষে সিলেট অঞ্চলে বিপ্লব ঘটেছে। দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা থাকায় দিন দিন এই অঞ্চলে বেড়েই চলছে এর উৎপাদন।
সিলেট অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, 'আমাদের সিলেট অঞ্চলে চারটি বিভাগে সূর্যমুখীর আবাদ দিন দিন বুদ্ধি পাচ্ছে। এবং এ বছর আমাদের প্রায় ৭৭২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের চারটি জেলায় প্রায় দুই হাজার ৬০০ কৃষককে বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ এবং সার দেয়া হয়েছে।'
তাছাড়া ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধিকে সূর্যমুখীর ব্যবহার ও ফুলের চাষ বৃদ্ধিতে সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে সভা সমাবেশ, প্রশিক্ষণ, দিবসভিত্তিক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।
বিমল চন্দ্র সোম বলেন, 'আমাদের যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং কৃষক সমাবেশ করে থাকি সেগুলোতে আমরা কৃষকদের সূর্যমুখী তেলে গুণাগুণ সম্পর্কে অবহিত করছি। এবং এতে কৃষকরাও আগ্রহ প্রকাশ করছে। এবং এরইমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় সূর্যমুখীর তেল খাওয়ার অভ্যাসটা শুরু হয়েছে।'
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগের চার জেলায় সূর্যমুখী ফুলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আড়াই হাজারের বেশি কৃষককে বীজ, সারসহ প্রায় ৫৮ লাখ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।