চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন কুয়াইশ রোডের খালে চলা জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজে অসাবধানতায় গেল সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেটে যায় ওয়াসার মূল পাইপলাইন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইন মাটির ১০ ফুট গভীরে। ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, রাঙ্গুনিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্প থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৪ কোটি লিটার পানি আসে এই পাইপলাইনে। যা সরবরাহ করা হয় আগ্রাবাদ, হালিশহর, দেওয়ানহাট, ওয়াসা, লালখান বাজারসহ নগরীর অর্ধেক এলাকয়।
ফাটলের কারণে এসব এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ গত মঙ্গলবার থেকে। একইসাথে বন্ধ করে রাখা হয়েছে রাঙ্গুনিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের উৎপাদন।
সিস্টেম লস বাদ দিয়ে নগরীতে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিদিন পানি সরবরাহ করে ৩৫ কোটি লিটার। প্রায় অর্ধেক সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে পানি সংকট। যা আগামী দুই দিনে আরও বাড়তে পারে। পানি সংকট নিরসনে বিকল্প উপায় খুঁজছে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় একজন বলেন, 'গত কয়েকদিন পানি তো আসেইনি। এমন একচা অবস্থা হয়েছে যে মুত ব্যক্তিকে গোসল করানো যাচ্ছে না।'
স্থানীয় অন্য একজন বলেন, 'যদি ওয়াসার পানি না থাকে তাহলে এখানে মানুষের চলাটা দুরূহ ব্যাপার।'
ঘটনার পর থেকে পাইপলাইন মেরামতে দিনরাত কাজ করছেন ওয়াসার শ্রমিক, কর্মকর্তারা। তবে কাজ শেষ হতে সময় লাগবে এক-দুই দিন। এরপর পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও এক সপ্তাহ।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুল আলম বলেন, 'প্রিলিমিনারি আমরা চেষ্টা করবো যে শর্টকাট ওয়েতে যেভাবে ওয়েল্ডিং করে এই পাইপটা তাড়াতাড়ি রিকভার করা যায় কি না। সেটা যদি হয় তাহলে আশা করি আজকের দিনের মধ্যেই আমরা সেটা করে ফেলতে পারবো। আর যদি সেটা আমরা না পারি, তাহলে আমাদের আরও কিছু টাইম লাগবে। কারণ তখন আমাদের পুরো পাইপটাই পরিবর্তন করতে হবে।'