এক সময়ের খরস্রোতা খাল ‘বংশ’। ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে যুক্ত এই খাল দিয়ে চলতো পণ্যবাহী নৌকা। আজ সেই খাল দখল আর দূষণের কবলে পড়ে প্রায় অদৃশ্য।
জামালপুর শহরের দয়াময়ী মোড়, তমাল তলা, পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে খালের দুই পাড় দখল হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পলিথিন, প্লাস্টিক ও বর্জ্যের স্তূপ জমে বন্ধ হয়ে গেছে খালের স্বাভাবিক প্রবাহও। বেড়েছে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব।
২০০৭ সালে যৌথবাহিনীর অভিযানে দখলদারদের হাত থেকে খাল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নিয়মিত তদারকির অভাবে আবারও দখল হয়ে গেছে খালের বিভিন্ন অংশ। নগরবাসীর অসচেতনতায় বাসাবাড়ির বর্জ্য, পলিথিন ও প্লাস্টিকে দূষিত হচ্ছে খালের পানি। এতে করে শুধু জলাবদ্ধতা নয়, বর্ষার সময় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, খুব শিগগিরই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। ইতোমধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ, বিলবোর্ড স্থাপন ও মাইকিংয়ের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।
জামালপুর পৌরসভা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পরিষ্কারের বিষয়ে পৌরসভার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয় এছাড়া খাল দখলের বিষয়ে আমরা একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে আমাদের উচ্ছেদ অভিযান চালু করা হবে।’
শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত বংশ খাল রক্ষা করা গেলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা কমবে, তেমনি দখলমুক্ত করে খালের ওপর বক্স কালভার্ট নির্মাণ করলে যানজটও হ্রাস পাবে বলে আশা করছে পৌরবাসী।