দুই বছর ধরে বন্ধ কাজিরহাট সেতুর নির্মাণকাজ, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

নির্মাণাধীন সেতু
নির্মাণাধীন সেতু | ছবি: এখন টিভি
0

পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে যান চলাচল বেড়েছে বহুগুণ। শরীয়তপুরের মানুষের যাতায়াতে খুলেছে নতুন দুয়ার। অথচ সেই সম্ভাবনার বড় বাঁধা কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাজিরহাট সেতু। প্রায় দুই বছর সেতুটির কাজ বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো সেতুই যাত্রীদের পারাপারের ভরসা। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

পদ্মা সেতু -শরীয়তপুর সড়কের নির্মাণাধীন কাজিরহাট সেতু। ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য আর ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি ২০২১ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল লিমিটেড। পাঁচ বছরে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ।

চার দফা বৃদ্ধি হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ, দুই বছর ধরে বন্ধ কাজ। নেই কোন কর্মযজ্ঞ। নেই শ্রমিক বা প্রকৌশলী। দুই তীরে নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে এই অঞ্চলের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে দুর্বলভাবে কাজ চলতেছে। আর কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো সেতুটিই একমাত্র ভরসা চলাচলকারীদের। জরাজীর্ণ সরু সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন রাজধানীর সাথে যোগাযোগ লাখো মানুষের।প্রায়ই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলার অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র কাজিরহাটের ব্যবসায়ীরা। যানজটে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে পড়েছে স্থবির।

যাত্রী চালক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ে যেমন যাতায়েত করা লাগছে। ঠিক তেমনি ব্যবসা বাণিজ্যের ও অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েও সুরাহা পায়নি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

শরীয়তপুর সওজে’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ এফ এম আহাদ রহমান খান বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ের নেতৃত্বে আমরা ঠিকাদারদেরকে চিঠি প্রদান করেছি এবং তারা দ্রুতই মোবিলাইজেশন করে কাজটা শুরু করবে বলে আমাদেরকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এবং আমরা আশাবাদী যে খুব দ্রুত কাজটা শুরু হবে।’

প্রকল্পটির সময় ও মেয়াদ বৃদ্ধির আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।

জেআর