চিঠি খুলতেই প্রাণনাশের হুমকি, সঙ্গে চাঁদা দাবি। কুষ্টিয়ার মিরপুরে গত দুই মাসে এমন চিঠি পেয়েছে অন্তত ৩০টি পরিবার। কুর্শা ইউনিয়নের ইশালমারী, ভেদামারী ও পুটিমারী গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এসব চিঠি পাঠানো হচ্ছে। চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, টাকা না দিলে হত্যা ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকিও দেয়া হচ্ছে।
পুটিমারী এলাকার আনিছুর রহমানের বাড়ির দরজায় পাওয়া যায় এমন চিঠি। সেখানেও টাকা দাবি করা হয়। ভয়ে-আতঙ্কে নির্ঘুম দিন কাটছে পরিবারটির। নিরাপত্তায় থানায় জিডি করেছেন তারা। তার বাড়ির পাশেই মৃত খোকন মেম্বারের বাড়িতেও পাওয়া যায় এমন চিঠি। এ ঘটনায় বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন মেম্বারের স্ত্রী। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
মেম্বারের স্ত্রী জাহেরা খাতুন বলেন, ‘অনেক সময় ভয় দেখাতে পারে, আবার চালের উপরে একটা ইটও ফেলতে পারে। একা থাকলে তো ভয়ের বিষয়।’
আরও পড়ুন
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় বেশ কয়েক জনের কাছে চিঠি এসেছে। কে বা কারা দিচ্ছে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ইশালমারী বাজার কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও কাদের ট্রেডার্সের মালিক রুহুল আমীনও পেয়েছেন চাঁদা চেয়ে পাঠানো চিঠি। সাম্প্রতিক সময়ের এমন চিঠিকাণ্ডে উৎকন্ঠায় রয়েছেন আশপাশ কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘১২ জনের কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকা এনে আমার কাছে রাখতে বলছিল তারা। আর সে টাকা তারা আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবে।’
উড়োচিঠির উৎস, হাতের লেখা এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধী চক্র রয়েছে কি না, এসব তদন্ত হচ্ছে। হুমকির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন যৌথ অভিযান করি, অভিযানের পরে আর আজ পর্যন্ত আর এটার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নাই। তারপরও আমরা এলাকায় পুলিশের নজরদারি আছে এবং মানুষ যেহেতু নিরাপদে, নির্বিঘ্নে, অসংকোচে শান্তিতে থাকতে পারে, আমাদের নিয়মিত পুলিশের টহল জোরদার আছে।’
এসব উড়োচিঠি শুধু চাঁদা দাবিই নয়, প্রাণনাশের হুমকির কারণে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। পুলিশ বলছে, চিঠিগুলোর উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।




