কপোতাক্ষের তীরে ময়লার ভাগাড়; নেই স্থায়ী ব্যবস্থা, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

ময়লার ভাগাড় থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ
ময়লার ভাগাড় থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ | ছবি: এখন টিভি
0

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বাইপাস সড়কের পাশে এবং কপোতাক্ষ নদের তীরে গড়ে উঠেছে পৌরসভার বিশাল ময়লার ভাগাড়। নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ, আর মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। বিকল্প ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পৌর প্রশাসন।

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভা কার্যালয়ের ঠিক সামনেই বাইপাস সড়ক। আর এই সড়কের কোল ঘেঁষেই কপোতাক্ষ নদীর তীরে দৃশ্যমান বিশাল এক ময়লার ভাগাড়।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের পচা সবজি, পলিথিন ও ক্লিনিক্যাল বর্জ্য প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে এখানে। একটু বাতাস হলেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘মেইন রাস্তার ওপরে পৌরসভার লোকজন ময়লা ফেলছে। আর এই ময়লা এখানে স্তূপ হয়ে গেলে এরা আবার এই ময়লা নিয়ে গিয়ে ওই কপোতাক্ষ নদীর ভেতরে ফেলছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘এত পরিমাণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যে গন্ধের জন্য আমরা কেউ টিকতে পারতেছি না। আশেপাশে আমাদের বাড়ি, বাড়িতেও কেউ সহ্য করতে পারতেছে না। এই যে সব যাতায়াত করতেছে দেখেন সবাই নাকে হাত দিয়ে যাচ্ছে।’

শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখান থেকে আমরা প্রতিদিনই স্কুলে যাই প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন রকম আমাদের অসুবিধা হয়। যেহেতু এগুলো ময়লা, অনেক দুর্গন্ধ।’

শুধু মানুষের ভোগান্তিই নয়, রাতে চলাচলের সময় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা বর্জ্য। বর্ষায় বিষাক্ত নোংরা পানি মিশে যাচ্ছে কপোতাক্ষ নদীর পানিতে, যা পরিবেশের জন্য সৃষ্টি করছে বড় ধরনের হুমকি।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় একজন বলেন, ‘কিছু বললেই বলা হয় কি—এটা তো পৌরসভার জায়গা, কিন্তু বাস্তবে পৌরসভার জায়গা না। হ্যাঁ, এটা তো নদীর জায়গা, ময়লা ফেলা হচ্ছে আবার নদীর ভেতরে দিয়ে আসছে। দেখবে কেডা? দেখার কেউ নেই।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমাদের শুধু আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছে যে হ্যাঁ এটা পরিষ্কার হবে, এইডায় অমুক জায়গায় জমি কিনছে, তাও তো হচ্ছে না তো।’

নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানেই বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পৌর প্রশাসন। তবে দ্রুতই বিকল্প স্থায়ী জায়গা নির্ধারণের আশ্বাস দেন প্রশাসনের কর্মকর্তা।

ঝিনাইদহ মহেশপুরের পৌর প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘খুব সাময়িক সময়ের জন্য পৌরসভার বর্জ্য আমাদের ওই নদীর—কপোতাক্ষ নদীর পাশে অস্থায়ী ভিত্তিতে ওখানে রাখা হচ্ছে। জায়গা নির্ধারিত হয়েছে, খুব দ্রুত ওখান থেকে ময়লা বর্জ্য অপসারণ করে আমরা সে নির্ধারিত জায়গায় আমরা ময়লা অপসারণ করবো।’

পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়, নদ কিংবা জনবসতির কাছাকাছি এভাবে বর্জ্য ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। দীর্ঘদিনের এই দুর্গন্ধ আর ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

এসএস